ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাইফুল হত্যা মামলার বাদী নিহতের বোন লাকী ও তার স্বামী শুক্কুরের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। মামলা প্রত্যাহার এবং আদালতে সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার পরই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আহতদের পরিবার।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) খেজুরবাগ সাতপাখি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। হামলায় গুরুতর আহত লাকী ও শুক্কুরকে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, সাইফুল হত্যা মামলায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে লাকীর আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে থেকেই তাকে মামলা তুলে নেওয়া এবং সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহতদের পরিবারের অভিযোগ, লাকীর বিউটি পার্লার ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে মুরাদ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের পাশাপাশি সাইফুল হত্যা মামলার বিষয়কে কেন্দ্র করে মামলার প্রধান আসামি জানে আলম ও মুরাদ একজোট হয়ে হামলার পরিকল্পনা করেন বলে তাদের দাবি।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, জানে আলম ও মুরাদের নেতৃত্বে খাদেম রফিক, হাকিমসহ কয়েকজন ব্যক্তি অস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে লাকী ও শুক্কুরের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাদের মারধরের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায় বলে পরিবারের দাবি। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, আহত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে হামলার পর অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে সাইফুল হত্যা মামলার বাদী-সাক্ষী ও তাদের পরিবারের পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।