ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী চলন্ত ট্রেনের ক্যান্টিনে নারী ধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। ট্রেনে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ-শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, মাদক-সংশ্লিষ্টতার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়েছিল।
গতকাল বুধবার বিকেলে এ তথ্য জানিয়েছেন সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল উদ্দীন। তিনি জানান, ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ আন্তনগর ট্রেনে ৪৪ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ক্যান্টিন বয়কে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পাকশী রেলওয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
এর আগে সোমবার সকালে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে থানাধীন নাটোর এলাকায় চলন্ত ট্রেনের ক্যান্টিনে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। চিৎকার শুনে ট্রেনের যাত্রীরা ওই নারীকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্ত ক্যান্টিন বয়কে আটক করে মারধর করে সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। গ্রেপ্তার আবু বক্কর সিদ্দিক নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের মাসুদ রানার ছেলে। ভুক্তভোগী নারীর বাড়ি সিরাজগঞ্জে। তিনি ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে করে কুড়িগ্রাম যাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ট্রেনে যাত্রার সময় ওই নারীকে ক্যান্টিনে নিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিকসহ কয়েকজন ধর্ষণ করেন। ভুক্তভোগী নারী রেলওয়ে পুলিশের দুই সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছেন। তল্লাশির সময় ইয়াবা-সংশ্লিষ্টতার ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠায় এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ।
ওই নারী অভিযোগ করেছেন, চলন্ত ট্রেনে দুই পুলিশ সদস্য তাকে তল্লাশির কথা বলে ক্যান্টিনে নিয়ে যান। তার কাছে ইয়াবা রয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এ সময় ক্যান্টিন বয় তাকে ধর্ষণ করেন। তবে মামলায় পুলিশ সদস্যদের নাম রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি দুলাল উদ্দীন স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
তিনি জানান, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত ক্যান্টিন বয় আবু বক্কর একাই ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছেন। ওই নারী কীভাবে ক্যান্টিনে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। ক্যান্টিন বয়ের দাবি, ওই নারী নিজেই ক্যান্টিনে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া অন্য অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্ত চলছে।