জোটের হিসাব বাদ! একাই মাঠে নামছে এনসিপি

ভোরের ডাক ডেস্ক

রাজনীতি

চলতি বছরের ডিসেম্বরে সম্ভাব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে মাঠে নেমেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

2026-09-02T16:49:45+00:00
2026-09-02T16:50:14+00:00
  বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজনীতি
জোটের হিসাব বাদ! একাই মাঠে নামছে এনসিপি
ভোরের ডাক ডেস্ক
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৯ পিএম  আপডেট: ০২.০৯.২০২৬ ৪:৫০ পিএম
প্রতীকী ছবি
চলতি বছরের ডিসেম্বরে সম্ভাব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে মাঠে নেমেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কোনো রাজনৈতিক জোটের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব সংগঠন ও প্রার্থী নিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

নির্বাচনের আগেই উপজেলা থেকে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন এবং সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও চলছে।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে দলের মূল লক্ষ্য হলো নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে প্রার্থী ও সাংগঠনিক অবস্থান সুসংহত করার কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে কর্মীসভা ও সাংগঠনিক সভা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত সপ্তাহে পুরো চট্টগ্রাম বিভাগে জেলা পর্যায়ের স্থানীয় নেতাদের নিয়ে সমন্বয় সভা হয়েছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে ওয়ার্ড ও তৃণমূল পর্যায়ের কমিটি গঠনের কাজ দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

এনসিপির নেতারা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নন এবং নতুনভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হতে আগ্রহী—এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া নেতৃত্ব নির্বাচনে বয়সসীমা, নারী প্রতিনিধিত্ব এবং স্থানীয় ধর্মীয় ও জাতিগত বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সাংগঠনিক নির্দেশনা অনুযায়ী, উপজেলা আহ্বায়কের বয়স কমপক্ষে ৪০ বছর এবং সদস্যসচিবের বয়স অন্তত ৩০ বছর হতে হবে। যারা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন বা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন, তাদের কমিটির আহ্বায়ক বা সদস্যসচিব পদে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে।

প্রতিটি উপজেলা কমিটিতে অন্তত ৫ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় ধর্মীয় ও জাতিগত জনগোষ্ঠীর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব রাখার কথা বলা হয়েছে। আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের মধ্যে অন্তত একজনের বাসস্থান শহর বা শহরের আশপাশে হওয়ার শর্তও রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছে না এনসিপি। দলীয় সূত্র বলছে, তৃণমূলে রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরির বড় পরীক্ষা হিসেবেই নির্বাচনটিকে দেখছে দলটি।

এরই মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে দুই শতাধিক প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এর আগে ১০০ জন সমর্থিত প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। শিগগিরই আরও ১০০ জনের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ১০০ জন সমর্থিত প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছি। খুব শিগগিরই আরও ১০০ জন প্রার্থীর তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।’

তিনি বলেন, পদযাত্রার মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। এখন ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কমিটি সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সম্ভব না হলে প্রাথমিকভাবে ১১ থেকে ১৫ সদস্যের আংশিক কমিটি করার নির্দেশনা রয়েছে। পরে ১৫ দিনের মধ্যে সেটিকে ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

উপজেলা কমিটি গঠনের পর দ্রুত ইউনিয়ন পর্যায়েও আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর আগেই তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করাতে চায় এনসিপি।

দলীয় নেতারা বলছেন, সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রার্থীদের সাংগঠনিক নেতৃত্বে যুক্ত করার মাধ্যমে প্রার্থী ও তৃণমূল সংগঠনকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা চলছে। এতে নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি সাংগঠনিক ভিত্তিও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে দলটি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন দলের মধ্যে জোট গঠনের আলোচনা থাকলেও এনসিপির বর্তমান প্রস্তুতি একক নির্বাচনের দিকেই। দলটির নেতারা বলছেন, জোটে গেলে আসন সমঝোতা, প্রার্থী প্রত্যাহারসহ নানা রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে। এতে নতুন দলের তৃণমূলভিত্তি গড়ে তোলার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে প্রতিটি এলাকায় নিজস্ব প্রার্থী, সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের ওপর নির্ভর করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায় এনসিপি।

মনিরা শারমিন বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে নিজেদের শক্তিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। জামায়াতসহ অন্যান্য দলগুলোও যার যার মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে শতাধিক প্রার্থী ঘোষণা করেছি এবং এখন পর্যন্ত এককভাবেই মাঠে নামার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি।’

দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়ের বড় সুযোগও। নির্বাচনে ভালো ফল এলে দলটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে; আর প্রত্যাশিত ফল না এলে সাংগঠনিক দুর্বলতাগুলোও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

তবে ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেও উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠন বিস্তার এবং ধাপে ধাপে প্রার্থী ঘোষণার মাধ্যমে এককভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রস্তুতিতেই এগোচ্ছে এনসিপি।


Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: