২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হচ্ছে আগামীকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর)। শিক্ষার্থীরা ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। ভর্তি কার্যক্রম শেষে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির নিয়মিত ক্লাস শুরু করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, এবারও ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করে শিক্ষার্থীর ফল, পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে রাখতে হবে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন শেষে মেধা, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য কোটা অনুযায়ী শিক্ষার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। যারা এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন, তাদেরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের পর যাদের ফল পরিবর্তন হবে, তাদের জন্য ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর পুনরায় আবেদনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, আবেদন ও যাচাই-বাছাই শেষে ২০, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হবে।
তবে যারা নির্ধারিত সময়ে কোনো কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবেন না, প্রত্যাশিত কলেজে মনোনয়ন পাবেন না কিংবা কোনো কারণে আবেদন করতে পারবেন না, তাদের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বরের পরও পুনরায় আবেদনের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আবেদন ও ভর্তি ফি
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন আবেদনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২২০ টাকা। আবেদন প্রক্রিয়ার পর প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন ফিসহ মোট ৩৪০ টাকা নেওয়া হবে।
এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪২ টাকা, ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা, রোভার/রেঞ্জার ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা, বিএনসিসি ফি ১০ টাকা এবং শিক্ষককল্যাণ ও অবসরসুবিধা ভাতা ফি ১০০ টাকা রয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর জন্য রেড ক্রিসেন্ট ফি বাবদ ২৪ টাকা এবং বার্ষিক ক্রীড়া মঞ্জুরি ফি বাবদ ৪০০ টাকা নেওয়ার কথা রয়েছে।
কলেজের ভর্তি ফি প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হবে। এমপিওভুক্ত কলেজের ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনে ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩ হাজার, জেলা পর্যায়ে ২ হাজার এবং উপজেলা ও মফস্বল এলাকায় ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নন-এমপিও বা আংশিক এমপিও কলেজের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান ও এলাকার ভিত্তিতে ফি ভিন্ন হবে। সর্বোচ্চ ফি প্রযোজ্য হবে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার নন-এমপিও বা আংশিক এমপিও কলেজগুলোর জন্য।
৯৩ শতাংশ আসন মেধায়, ৭ শতাংশ কোটায়
একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালায় ৭ শতাংশ আসন কোটার জন্য সংরক্ষণ এবং বাকি ৯৩ শতাংশ আসন মেধার ভিত্তিতে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, কোটার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ আসন রাখার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রস্তাবিত খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত বছরের ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশের তুলনায় কম।
এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন।
ফলে গত বছরের তুলনায় এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার এবং জিপিএ-৫—দুটিই কমেছে। এই ফলের ভিত্তিতেই এবার সারাদেশে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।