মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও অনুষদের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসে মেনে নেওয়া হবে না। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
কৃষি অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ মাহাদি বলেন, ‘এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এর পেছনে একটি চক্র কাজ করে। ঈমানে দুর্বলদের বিভ্রান্ত করে ধর্মীয় অবমাননায় জড়ানো এবং মুসলমানদের প্রতিক্রিয়া যাচাই করাই তাদের উদ্দেশ্য। আমরা নরম হলে এমন ঘটনা একের পর এক ঘটতেই থাকবে।’
আরেক শিক্ষার্থী নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দাবি, অভিযুক্তের ছাত্রত্ব বাতিলসহ সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ার সাহস না পায়। এ বিষয়ে আমরা প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলেছি।’
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে গতকাল তিনি একটি মেসেজের মাধ্যমে জানতে পারেন। পরে হাউস টিউটরদের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে ডেকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
প্রভোস্টের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী তার ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়ে একটি মুচলেকা দিয়েছে। পরে সে হলের বাইরে চলে গেছে।
বাকৃবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ধর্মীয় অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।