
গত ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে যায় আর্জেন্টিনার। ম্যাচ শেষে মেসিসহ দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। কোচ লিওনেল স্কালোনির চোখেও ছিল পরাজয়ের কষ্ট।
ফাইনালের পর মেসির দিকে যখন ক্যামেরা তাক করা হয়, তখন তাঁর চোখের পানি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর আরও একটি বিশ্বকাপ জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত তা অর্জন করতে পারেননি তিনি।
তবে ফাইনালের সেই হতাশার মধ্যেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন মেসি। অবসরের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আবেগঘন বার্তার শেষ দিকে তিনি জানান, ফাইনালের দুই দিন পর, অর্থাৎ ২১ জুলাই, তিনি এ বিষয়ে লিখেছিলেন।
মেসির ভাষ্য অনুযায়ী, তখনই তাঁর সিদ্ধান্ত অনেকটা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। পরে তাঁর বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যু সেই সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করে। গত ৮ আগস্ট বাবাকে হারান মেসি। হোর্হে শুধু তাঁর বাবা ছিলেন না, দীর্ঘদিন ধরে মেসির ব্যক্তিগত এজেন্ট হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ২১ বছর আগে। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি দেশের হয়ে অসংখ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। সবচেয়ে বড় অর্জন আসে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে, যেখানে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করে বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ করেন তিনি।
এর আগে অবশ্য আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হারের পর জাতীয় দলকে বিদায় জানান তিনি। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৯ বছর। পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত বদলে আবার আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে ফেরেন এবং ইতিহাসের অন্যতম সফল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।
এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। মেসির বয়স এখন ৩৯ বছর। দীর্ঘ ক্যারিয়ার, বিশ্বকাপজয় এবং সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত শোকের পর জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ফলে ২০১৬ সালের মতো আবারও ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে।
মেসির বিদায়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবলের একটি দীর্ঘ ও গৌরবময় অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ২১ বছরের পথচলায় ছিল হতাশা, সমালোচনা, প্রত্যাবর্তন এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বজয়ের অনন্য সাফল্য।