লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারের দ্বারপ্রান্তে পাকিস্তান। ম্যাচের তিন দিন শেষ হলেও বৃষ্টির কারণে তৃতীয় দিনে ২৫ ওভারেরও কম খেলা হয়েছে। তবু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই স্বাগতিকদের হাতে।
প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১০ রানে অলআউট হওয়ার পর থেকেই চাপে পাকিস্তান। এর সুযোগ নিয়ে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে বড় লিডের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে তাদের সংগ্রহ ১৭৭ রানে ৭ উইকেট। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের লিড দাঁড়িয়েছে ৩৫৭ রানে।
পাকিস্তানের এই দুরবস্থার অন্যতম কারণ ব্যাটিং ব্যর্থতা। চলতি সিরিজে এখন পর্যন্ত তিন ইনিংস মিলিয়ে পাকিস্তানের সংগ্রহ মাত্র ৪১৭ রান। ফলে লর্ডসের অসম বাউন্সের উইকেটে শেষ ইনিংসে ৪০০ বা তার বেশি রান তাড়া করা পাকিস্তানের জন্য প্রায় অসম্ভবই মনে হচ্ছে।
তবে কঠিন পরিস্থিতিতেও আশা ছাড়ছেন না পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আলী। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে তিনি স্বীকার করেছেন, প্রথম ইনিংসে দলের ব্যাটিং ব্যর্থতাই ম্যাচে বড় ব্যবধান তৈরি করেছে।
মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রথম ইনিংসে অনেক বেশি ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। এতটা পিছিয়ে পড়লে প্রতিপক্ষের উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়া ছাড়া আর তেমন কিছু করার থাকে না। দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের বোলাররা আগের চেয়ে ভালো এবং ধারাবাহিক বোলিং করেছেন বলেও মনে করেন তিনি।
ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে অবশ্য এখনো বেশ কয়েকজন বিপজ্জনক ব্যাটার রয়েছেন। তাদের চার পেসার ওলি রবিনসন, জফরা আর্চার, গাস অ্যাটকিনসন ও জশ টাং এখন পর্যন্ত ভালো ছন্দে আছেন।
লর্ডসের উইকেটেও দেখা গেছে অসম বাউন্স। এমন কন্ডিশন ফাস্ট বোলারদের জন্য সহায়ক বলেই মনে করেন মোহাম্মদ আলী। তবে একই সঙ্গে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং করা যে কঠিন হবে, সেটিও অজানা নয় পাকিস্তানের।
তবু ক্রিকেটে অসম্ভব বলে কিছু নেই, এই বিশ্বাসেই আশায় বুক বাঁধছে পাকিস্তান। মোহাম্মদ আলীর ভাষায়, ক্রিকেটে মিরাকল ঘটেই। এখন তাদের কাজ হলো আশা ধরে রাখা এবং ব্যাটিং বিভাগকে উৎসাহ দেওয়া।
১–০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তানের সামনে তাই লর্ডসে ম্যাচ বাঁচানোর সমীকরণ কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। বাস্তবতা বলছে জয় তো দূরের কথা, হার এড়াতেই এখন বড় কোনো চমক দেখাতে হবে বাবর-রিজওয়ানদের দলকে।