বয়স ৩৯-এর পথে, তবুও গোলের ক্ষুধায় এতটুকু ভাটা নেই লিওনেল মেসির। বরং সময় যত গড়াচ্ছে, গোলের রেকর্ডে ততই নতুন নতুন অধ্যায় যোগ করছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ইন্টার মায়ামির জার্সিতে মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে চার গোল করে আরও একবার নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন তিনি।
মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানও রীতিমতো বিস্ময় জাগানোর মতো। ১ হাজার ১৭১টি পেশাদার ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ৯২৭। এর মধ্যে ৬২টি হ্যাটট্রিক। শুধু তাই নয়, এক ম্যাচে চার বা তার বেশি গোল করেছেন মোট নয়বার।
মেসির চার বা তার বেশি গোলের ম্যাচগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০১০ সালে আর্সেনালের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে প্রথমবার এক ম্যাচে চার গোল করেন তিনি। এরপর ২০১২ সালে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে চার গোলের পর বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে করেন পাঁচ গোল। একই বছর এস্পানিওলের বিপক্ষেও চারবার বল জালে পাঠান আর্জেন্টাইন তারকা।
২০১৩ সালে ওসাসুনার বিপক্ষে আবারও চার গোল করেন মেসি। ২০১৭ সালে এইবারের বিপক্ষে চার গোল করার পর ২০২০ সালেও একই দলের বিপক্ষে চারবার গোলের দেখা পান তিনি।
জাতীয় দলের জার্সিতেও মেসির এমন কীর্তি রয়েছে। ২০২২ সালের জুনে এস্তোনিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে একাই পাঁচ গোল করেন তিনি। এটি ছিল এক ম্যাচে চার বা তার বেশি গোল করার ক্ষেত্রে তাঁর নবম কীর্তি।
এক ম্যাচে চার গোল, এবার মায়ামির হয়ে
সর্বশেষ সংযোজন ইন্টার মায়ামির হয়ে মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে চার গোল। বয়স কিংবা ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্ত, কোনো কিছুই যেন মেসির গোল করার ধারায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না।
পরিসংখ্যান বলছে, ১ হাজার ১৭১ ম্যাচের মধ্যে ৫৬০ ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেননি মেসি। তবে ৩৬৬ ম্যাচে করেছেন একটি করে গোল, ১৮৩ ম্যাচে জোড়া গোল এবং ৫৩ ম্যাচে হ্যাটট্রিক।
এ ছাড়া সাত ম্যাচে চার গোল এবং দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করার কীর্তিও রয়েছে তাঁর। অর্থাৎ, মেসির ক্যারিয়ারে এক ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোল করা যেন নতুন কোনো ঘটনা নয়।
হ্যাটট্রিকের হিসাবেও কয়েকটি প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিশেষ সাফল্য রয়েছে মেসির। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে চারটি হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। আতলেতিকো মাদ্রিদ, এস্পানিওল, দেপোর্তিভো লা করুনিয়া ও ওসাসুনার বিপক্ষে রয়েছে তিনটি করে হ্যাটট্রিক।
বার্সেলোনার জার্সিতে সর্বোচ্চ ৪৮টি হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে ১১টি এবং ইন্টার মায়ামির হয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি হ্যাটট্রিক রয়েছে তাঁর।
সংখ্যাগুলোই যেন বলে দিচ্ছে মেসির পায়ের জাদু এখনও শেষ হয়ে যায়নি। গোলের মঞ্চ বদলেছে, জার্সির রং বদলেছে; কিন্তু গোল করার সেই চিরচেনা ক্ষুধা এখনও একই রয়ে গেছে।