ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না পাকিস্তান ক্রিকেট দল। ইংল্যান্ড সফরে হেডিংলির পর লর্ডসেও বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজ খোয়ানোর পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন দল। সাবেক ক্রিকেটারদের কেউ কেউ বর্তমান পাকিস্তান দলকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে ১৯৪ রানে হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাবেক ক্রিকেটাররা। সাবেক অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ নিজের এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট এখন মেরুদণ্ডহীন।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের ব্যাটিং ছিল হতাশাজনক। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১০ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৪ রানে অলআউট হয় তারা। দুই ইনিংসে আজান আওয়াইসের ৪৬ ও সৌদ শাকিলের ৯৭ রান ছাড়া ব্যাটিংয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেনি দলটি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের বোলাররা নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করেছেন। লর্ডসে ইংল্যান্ডের ২০ উইকেটের মধ্যে ১৪টি নিয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আলী। তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেই বোলিংয়ের সুফল কাজে লাগাতে পারেনি পাকিস্তান।
কিছুদিন আগেও ওয়াকার ইউনিস, ইউনিস খান, শোয়েব আখতার ও ওয়াসিম আকরামের মতো কিংবদন্তিদের হাত ধরে বিশ্ব ক্রিকেটে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছিল পাকিস্তান। বর্তমান দলের এমন দুরবস্থায় হতাশ সাবেক ওপেনার আহমেদ শেহজাদও।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, সমৃদ্ধ ইতিহাস ও কিংবদন্তিতুল্য মর্যাদার একটি ক্রিকেটীয় দেশ এখন বিশ্ব ক্রিকেটে হাসি-তামাশার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট এর চেয়ে অনেক ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাকিস্তানের সাম্প্রতিক টেস্ট পরিসংখ্যানও দলটির দুর্দশার চিত্র তুলে ধরছে। ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৮টি টেস্ট খেলে মাত্র পাঁচটিতে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। বিপরীতে হারতে হয়েছে ১৩টি ম্যাচে। এর মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষেই টানা চার টেস্টে পরাজিত হয়েছে তারা।
এ বছরের মে মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ব্যর্থতার পর পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়কত্ব হারিয়েছিলেন শান মাসুদ। পরে তিন বছর পর সাদা পোশাকে নেতৃত্বে ফেরানো হয় বাবর আজমকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করলেও ইংল্যান্ড সফরে এসে আবারও ব্যর্থতার মুখে পড়েছে পাকিস্তান।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে বাবর আজমও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। হেডিংলিতে একাদশের বাইরে থাকার পর লর্ডসে সুযোগ পেয়েও মাত্র ১৪ রান করেছেন তিনি।
শুধু সাম্প্রতিক সময়ের হিসাব নয়, টেস্ট ইতিহাসেও পাকিস্তানের অবস্থান এখন উদ্বেগের। ১৯৫২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৪৭৩টি টেস্ট খেলে পাকিস্তান জিতেছে ১৫৩টি, হেরেছে ১৫৪টিতে এবং ড্র করেছে ১৬৬টি ম্যাচ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকলেও টানা ব্যর্থতায় পাকিস্তান দলের ওপর চাপ যে ক্রমেই বাড়ছে, তা স্পষ্ট।