সংক্রমণের আশঙ্কায় পরিচয়হীন মরদেহ দাফন করছে নেপাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর উদ্ধার হওয়া পরিচয়হীন ও দাবিদারহীন মরদেহ দাফনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণ করা

2026-08-30T12:04:41+00:00
2026-08-30T12:04:41+00:00
  সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬,
১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
 
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
সংক্রমণের আশঙ্কায় পরিচয়হীন মরদেহ দাফন করছে নেপাল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রোববার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম 
সংক্রমণের আশঙ্কায় পরিচয়হীন মরদেহ দাফন করছে নেপাল
নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর উদ্ধার হওয়া পরিচয়হীন ও দাবিদারহীন মরদেহ দাফনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণ করা হলে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিতওয়ানে হাসপাতালগুলোতে মরদেহ রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি বাড়িকেও অস্থায়ীভাবে মরদেহ সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। কিন্তু সেখানেও জায়গা ফুরিয়ে যাওয়ায় মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

পরিচয় শনাক্তে রাখা হচ্ছে ডিএনএ নমুনা : মরদেহ দাফন করা হলেও ভবিষ্যতে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের সুযোগ রাখতে বিস্তারিত নথি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। দাফনের আগে প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে প্রতিটি মরদেহের জন্য একটি আলাদা শনাক্তকরণ নম্বর নির্ধারণ করা হচ্ছে।

কোন মরদেহ কোথায় দাফন করা হয়েছে, সেই তথ্যও সংরক্ষণ করা হবে। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট মরদেহ কবর থেকে তুলে স্বজনদের কাছে দেওয়া হবে।

শনিবার বিকেল পর্যন্ত শতাধিক মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মরদেহগুলো প্রায় দেড় মিটার গভীর কবরে দাফন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে মরদেহ উত্তোলনের সুবিধার জন্য কবরগুলোর মধ্যে প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রাখা হচ্ছে।

প্রতিটি মরদেহ নম্বরযুক্ত ব্যাগে রাখা হচ্ছে। কবরের পাশে কংক্রিটের প্ল্যাটফর্ম ও পরিচয়ফলক স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে মরদেহের শনাক্তকরণ নম্বর উল্লেখ থাকবে।

দাফনের পুরো প্রক্রিয়া ছবি ও ভিডিওতে ধারণের পাশাপাশি কবরের অবস্থান জিও-ট্যাগ করে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে পরে কোনো নির্দিষ্ট মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হলে তার কবরের অবস্থান সহজেই খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।

স্বজনদেরও ডিএনএ নমুনা দিতে হবে : নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের নির্ধারিত হাসপাতাল বা কেন্দ্রে গিয়ে ডিএনএ নমুনা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ এসব নমুনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহের ডিএনএ মিলিয়ে পরিচয় শনাক্ত করবে।

ডিএনএ পরীক্ষায় মিল পাওয়া গেলে পুলিশ মরদেহের শনাক্তকরণ নম্বরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কবরের অবস্থান নির্ধারণ করবে। এরপর মরদেহ উত্তোলন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

পরিচয়হীন ও দাবিদারহীন মরদেহের তথ্য একটি ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করেছে নেপালের পুলিশ।

গত বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধসের পর ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। পানির সঙ্গে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোতে নেপালের বিভিন্ন গ্রাম ও শহর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রোববার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট ও নেপাল নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুর্যোগে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে পৌঁছেছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৭৩৪টি মরদেহ।

চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম : ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে ৩৭টি ট্রাক ও সাতটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় বিশেষায়িত সার্জিক্যাল মেডিকেল টিমও মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকারগুলোর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

এদিকে এখনো প্রায় তিন হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।

সূত্র: এনডিটিভি


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: