দুই সিটিতে নাগরিক সেবা পেতে পদে পদে ভোগান্তি

সাইদুল ইসলাম

জাতীয়

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডগুলোতে নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় নাগরিক সেবা পেতে পদে পদে ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী। জন্মনিবন্ধন,

2026-08-29T13:25:41+00:00
2026-08-29T13:25:41+00:00
  রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২২ ভাদ্র ১৪৩৩
 
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
ওয়ার্ডগুলোতে নেই কাউন্সিলর
দুই সিটিতে নাগরিক সেবা পেতে পদে পদে ভোগান্তি
দ্রুত নির্বাচন দিয়ে এ সমস্যা সমাধানের দাবি নগরবাসীর
সাইদুল ইসলাম
শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৫ পিএম 
ছবি : বাসস
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডগুলোতে নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় নাগরিক সেবা পেতে পদে পদে ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী। জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, মৃত্যু সনদ, নাগরিকত্ব সনদসহ ১৪ ধরনের নাগরিক সেবা দেওয়া হয় ওয়ার্ডগুলোতে। কিন্তু এসব গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিতে গিয়ে নির্ধারিত জনপ্রতিনিধির সহযোগিতা না পাওয়ায় এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে নাগরিকদের। ফলে ছোটখাটো নাগরিক সেবা থেকে শুরু করে এলাকার অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানেও তৈরি হচ্ছে দীর্ঘসূত্রতা। তাছাড়া, স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরাসরি কথা বলারও তেমন একটা সুযোগ নেই। ফলে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে এ সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০ পৌরসভা, ৪৯৭ উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়রের স্থলে প্রশাসকদের দায়িত্ব দেয়া হলেও  ওয়ার্ডগুলোতে কাউন্সিলর না থাকায় ভোগান্তি যাচ্ছে না নগরবাসীর। কারণ, ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে ১৪ ধরনের নাগরিক সেবা দেওয়া হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সব কাউন্সিলরকে বরখাস্ত করায় এই সেবা পেতে এখনো ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের। দ্রুত নির্বাচন না হলে এমন সংকট আরও দীর্ঘায়িত হবে বলে নগরবাসী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

মগবাজারের বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, আগে যে কোন সেবা পেতে কাউন্সিলরের কাঝে গেলেই দ্রুত সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে এখনো ছোটখাটো নাগরিক সেবা পেতেও আমাদেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, আগে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে গিয়ে এলাকার রাস্তা, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি, মশক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন সমস্যা জানানো যেত। কাউন্সিলররা সংশ্লিষ্ট বিভাগে বিষয়গুলো তুলে ধরে সমাধানের উদ্যোগ নিতেন। বর্তমানে নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় একই ধরনের সমস্যা নিয়ে কোথায় এবং কার কাছে অভিযোগ করতে হবে, তা নিয়েও অনেক নাগরিক বিভ্রান্তিতে পড়ছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, নালা-নর্দমা পরিষ্কার, সড়কের খানাখন্দ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো সমস্যায় ভোগান্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ নগরবাসীর। অনেক এলাকায় স্থানীয় সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও দ্রুত সমাধান হচ্ছে না। নাগরিক সেবার পাশাপাশি বিভিন্ন সনদ ও প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রেও ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন অনেকে। আগে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ের মাধ্যমে যেসব বিষয়ে সহজে দিকনির্দেশনা পাওয়া যেত, এখন সেসব কাজে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন দপ্তরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে সাধারণ মানুষের।

রামপুরার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বলেন, এলাকার কোনো সমস্যা হলে আগে কাউন্সিলরের কাছে গিয়ে জানানো যেত। এখন সমস্যা নিয়ে কোথায় গেলে দ্রুত সমাধান হবে, সেটাই বুঝতে পারি না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করলেও অনেক সময় সমাধান পেতে অপেক্ষা করতে হয়। আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকলে এলাকার মানুষের কাছে তাদের জবাবদিহি থাকে। এখন কাউন্সিলর না থাকায় স্থানীয় সমস্যাগুলো তুলে ধরার কার্যকর মাধ্যমও নেই।

অনেকেই অভিযোগ করেছেন, সাধারণ একটি সনদের জন্যও কয়েকবার অফিসে যেতে হচ্ছে। কার কাছে গেলে কাজ হবে, সেটাও অনেক সময় পরিষ্কারভাবে জানা যায় না। জনপ্রতিনিধি থাকলে অন্তত সমস্যাটি সরাসরি জানানো যেত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাউন্সিলর না থাকায় ওয়ার্ড পর্যায়ের কিছু নাগরিক সেবা বিকেন্দ্রীকরণ ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে নাগরিকদের সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থায় কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা চলছে।

নগর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিটি করপোরেশনের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম চললেও ওয়ার্ড পর্যায়ে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্ব না থাকলে নাগরিকদের অভিযোগ, সমস্যা ও প্রত্যাশা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের মতে, নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকা অবস্থায় ওয়ার্ড পর্যায়ে বিকল্প ও কার্যকর সেবা কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে নাগরিক অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে যেন মৌলিক নাগরিক সেবা ব্যাহত না হয়। দ্রুত ওয়ার্ড পর্যায়ে কার্যকর প্রতিনিধিত্ব বা বিকল্প সেবা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে রাজধানীর বাসিন্দাদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন করা উচিত ছিল। তিনি জানান, স্থানীয় নির্বাচন বিষয়ে সংবিধানের ৫৯-এর ১ ধারায় বলা আছে, আইন অনুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক এককাংশের স্থানীয় শাসনের ভার দেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরমধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের ২ জুন। সে হিসাবে গত বছরের ১ জুন এই সিটির পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয়েছিল ২০২০ সালের ৩ জুন। এই সিটির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন। ফলে এই দুই সিটিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি সবচেয়ে জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব আবু আলম শহীদ খান বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করা উচিত ছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচন যত দ্রুত হবে, ততই ভালো। এ ছাড়া ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ, দীর্ঘদিন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। কারণ নির্বাচিত কাউন্সিলররা থাকলে নাগরিক সেবা দ্রুত পাওয়া যায়।




Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: