মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় বোরো ধানের আবাদ ঘিরে কৃষকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। সময়মতো সার, সেচ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ পাওয়া গেলে এবার ভালো ফলনের পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখার প্রত্যাশা করছেন তারা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার ১০০ কৃষককে বোরো ধানের চারা ও কৃষি উপকরণ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে বোরো চাষে আগ্রহ বেড়েছে। পাট কাটার পর অনেক কৃষক দ্রুত জমি প্রস্তুত করে বোরো ধানের আবাদ শুরু করেছেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, বোরো ধান চাষে অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ বেশি। সেচ, সার, বীজ, শ্রমিক ও কীটনাশকের পেছনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হয়। এর মধ্যে মৌসুমে সারের সংকট তৈরি হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হতে পারে।
কৃষকদের ভাষ্য, বোরো ধানের জমিতে নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। তাই বাজারে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করা গেলে তারা নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করতে পারবেন। একই সঙ্গে সেচের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিবচর উপজেলার কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোতে ধান, পাটসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্যের বাজারদরের ওঠানামা কৃষকদের লাভ-লোকসানে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। কৃষকরা বলছেন, ধানের ন্যায্যমূল্যের পাশাপাশি সার, বীজ, কীটনাশকসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হলে বোরো চাষ আরও লাভজনক হবে।
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান খান বলেন, পাট কাটার সঙ্গে সঙ্গেই প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের বোরো ধানের চারা ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। শিবচরে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কৃষকদের দাবি, বোরো মৌসুমে কোনোভাবেই যেন সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাজারে সারের সরবরাহ ও মূল্য নিয়মিত তদারকি করতে হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কৃষি উপকরণের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।
কৃষকদের মতে, উৎপাদন খরচ কমানো এবং ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে বোরো আবাদে লাভ বাড়বে। এতে ভবিষ্যতে কৃষকদের চাষাবাদে আগ্রহও আরও বৃদ্ধি পাবে।