পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নির্মূল, শিক্ষার মানোন্নয়ন, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে একগুচ্ছ সুপারিশ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান।
সভায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, অপরাধ দমন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ইভটিজিং প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ বন্ধ এবং বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
সভায় মাদক নির্মূলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের প্রয়োজনে ডোপ টেস্টের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার সুপারিশ করেন উপস্থিত সদস্যরা।
কাউখালী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি সভায় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। মূল শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে অতিথি শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি করতে নির্ধারিত ফি ক্যাশ মেমোর মাধ্যমে গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বিবাহ রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে সরকারি বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে মোটরসাইকেল চালকদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকদের প্রাথমিক ড্রাইভিং ধারণা দিতে একদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলার সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব সরকারি দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও আন্তরিক ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির, কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কর্মকার এবং সাংবাদিক এনামুল হক, রিয়াদ মাহমুদ সিকদার ও রফিকুল ইসলাম।
এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।