
নেপাল পর্যটন বোর্ডের সর্বশেষ হিসাব বলছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৬১ জন নেপালের নাগরিক। আর ৩৪১ জন বিদেশি। তাঁদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। নিখোঁজদের তালিকায় নারী ২০০ জন এবং পুরুষ ২০৩ জন। সব মিলিয়ে অন্তত ২৬টি দেশের নাগরিকের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
নিখোঁজদের বড় একটি অংশ পর্যটক বলে জানিয়েছে নেপাল পর্যটন বোর্ড। ট্যুর অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের অনেকেই ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী মানস সরোবরের পথে ছিলেন। দুর্যোগের সময় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তাঁদের অবস্থান থাকায় উদ্ধারকারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
বন্যার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে নদীর কাছাকাছি বসতিগুলোতে। হঠাৎ নেমে আসা পানির ঢলে মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগও পাননি অনেক ক্ষেত্রে। রসুয়ার ভোতকোশি নদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে নেপালের সেনাবাহিনীও বড় পরিসরে কাজ করছে। নেপাল টিভি ও রেডিও নেপালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী ৮০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করেছে। তাঁদের মধ্যে ২৯ জনকে বেসরকারি হেলিকপ্টারের সাহায্যে দুর্গম এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগের ভয়াবহতায় শোক জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে পুরো জাতি গভীরভাবে মর্মাহত বলে জানান। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বজনদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগের খবর পাওয়ার পর কোনো ধরনের বিলম্ব না করে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়েছে। মানুষের জীবন রক্ষায় রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সব সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগানো হচ্ছে।
তবে বিপর্যয়ের পুরো চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। বহু এলাকা দুর্গম হওয়ায় সেখানে উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র ততই পরিষ্কার হবে।
নেপালের এই দুর্যোগে একদিকে যেমন প্রাণহানির মিছিল, অন্যদিকে তেমনি নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন শত শত পরিবার। পাহাড়, নদী আর পর্যটনের জন্য পরিচিত দেশটিতে হঠাৎ নেমে আসা এই বিপর্যয় এখন পরিণত হয়েছে বড় এক মানবিক সংকটে।