পারমাণবিক প্রযুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি! সৌদিকে ট্রাম্পের চাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

সৌদি আরবকে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাবিত একটি চুক্তি মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার

2026-08-26T10:52:40+00:00
2026-08-26T11:34:56+00:00
  বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬,
১১ ভাদ্র ১৪৩৩
 
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
পারমাণবিক প্রযুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি! সৌদিকে ট্রাম্পের চাপ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫২ এএম  আপডেট: ২৬.০৮.২০২৬ ১১:৩৪ এএম
সংগৃহীত ছবি
সৌদি আরবকে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাবিত একটি চুক্তি মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে বড় শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি। সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করা পর্যন্ত চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা হবে না বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রস্তাবিত চুক্তিটি গত জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত হয় এবং এর মেয়াদ ৩০ বছর। চুক্তির আওতায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি রপ্তানি এবং এপি১০০০ ধরনের পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর নির্মাণের সুযোগ পাবে। কয়েক হাজার কোটি ডলারের এই প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বেশ কয়েকটি বড় পারমাণবিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

চুক্তিটি অনুমোদনের বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের হাতে ৯০ কার্যদিবস সময় রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে আইনপ্রণেতারা কোনো আপত্তি না জানালে চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হতে পারে। কংগ্রেস চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেটো দিতে পারবেন। আর সেই ভেটো অকার্যকর করতে কংগ্রেসে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে।

সৌদি আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাতে দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২০ ও ২০২১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে।

এরপর সৌদি আরবকেও ওই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার চেষ্টা চালায় ওয়াশিংটন। ২০২৩ সালে রিয়াদ ও তেল আবিবের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা অনেকটা এগিয়েও গিয়েছিল। তবে ওই বছরের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হলে সেই আলোচনা থেমে যায়।

সৌদি আরবের অবস্থান হলো, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি সুস্পষ্ট ও অপরিবর্তনীয় পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে না।

চুক্তিটি কংগ্রেসে পাঠানোর পর মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মূল আশঙ্কা, সৌদি আরবকে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা পারমাণবিক চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছিল। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে পরিচিত।

তবে সৌদি আরবের জন্য প্রস্তাবিত নতুন চুক্তিতে একই ধরনের কঠোর বিধিনিষেধ রাখা হয়নি বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্রাম্প প্রশাসনের অবশ্য দাবি, প্রস্তাবিত চুক্তিতে মার্কিন আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও অপসারণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা হলেও তা বেসামরিক ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি একই কূটনৈতিক সমীকরণে নিয়ে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এখন কংগ্রেসের পর্যালোচনা ও সৌদি আরবের অবস্থান—দুই দিকের সিদ্ধান্তের ওপরই চুক্তিটির ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: