ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, মার্কিন চাপ মোকাবিলায় ইরান প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলে নিজেদের হাতে থাকা বিভিন্ন ‘হাতিয়ার’ ব্যবহার করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ প্রায় ছয় মাসে গড়িয়েছে। এর মধ্যেই সোমবার নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে ওয়াশিংটন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার দাবি, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ডলারের ওপর নির্ভরশীল বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়েছে। তবে কোন কোন দেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং তা কবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি বেসেন্ট।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে দেখছে তেহরান। তবে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের নিজস্ব সক্ষমতা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মাদানিজাদেহ বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন আর শুধু আত্মরক্ষামূলক নয়; শত্রুর হামলার জন্য অপেক্ষা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাও তাদের রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, চীন ও রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। অন্য দেশগুলোও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ইরানের অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ এবং জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে বড় ধরনের আঘাত হানা হতে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের জবাবে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি আরও কমিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছিল।
এদিকে দীর্ঘস্থায়ী ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও চাপ বাড়ছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের হামলা তুলনামূলকভাবে কমলেও কূটনৈতিক সমাধানের দিকে অগ্রগতির স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
এর মধ্যেই পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ইরানের হামলা বন্ধে নতুন কৌশল খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মিত্রদের মাধ্যমে লোহিত সাগরেও ইরানের হামলা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর তেহরান-ওয়াশিংটন উত্তেজনা কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।