যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে নারীদের বাধ্যতামূলক হিজাব পরার বিষয়টি। দেশটির রক্ষণশীল রাজনীতিক ও ধর্মীয় নেতারা হিজাবের বিধান কঠোরভাবে কার্যকরের দাবি জোরদার করলেও তরুণীদের একটি অংশ এখনো তা মানতে অনীহা দেখাচ্ছেন।
সম্প্রতি ইরানের বিভিন্ন শহরে হিজাববিহীন নারীদের চলাচলের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তেহরান ও সিরাজে হেলমেট পরা অবস্থায় হিজাব ছাড়া তরুণীদের স্কুটার ও মোটরসাইকেল চালানোর ছবি ও ভিডিও নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে হিজাবসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটির প্রশাসন ও প্রসিকিউটর অফিস থেকে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় কফি শপ, রেস্তোরাঁ ও পোশাকের দোকানে ‘নীতি-বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে জনপ্রিয় গায়িকা পরস্তু আহমাদী ও তাঁর ব্যান্ড দলের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে। দেশটির রক্ষণশীল মহলের পক্ষ থেকে হিজাবকে ধর্মীয় ও আইনি দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হচ্ছে।
তবে সরকারের ভেতরেও এ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের আচরণ পরিবর্তনের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং জোরপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার বিরোধিতা করেছেন।
সাবেক সংসদ সদস্য গোলামআলী জাফরজাদেহ বিমানাবাদি হিজাবের পরিবর্তে মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সংকট মোকাবিলায় বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে পার্লামেন্ট সদস্য মোহাম্মদ-তাকি নকদালি হিজাববিহীন পোশাককে দেশের জন্য গুরুতর সাংস্কৃতিক হুমকি হিসেবে দেখছেন।
এর মধ্যেই তরুণীদের একটি অংশের মধ্যে হিজাব না পরার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ফলে একদিকে সরকারের কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে নারীদের অনড় অবস্থান—দুইয়ের টানাপোড়েনে ইরানে হিজাব বিতর্ক আবারও নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সূত্র: সিএনএন