থমকে গেছে তারেক রহমানের দিল্লি সফর, নেপথ্যে কী?

ভোরের ডাক ডেস্ক

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। শুক্রবার দুপুরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের একটি ঘোষণা প্রকাশ

2026-08-24T20:37:31+00:00
2026-08-24T20:37:31+00:00
  মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬,
১০ ভাদ্র ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
থমকে গেছে তারেক রহমানের দিল্লি সফর, নেপথ্যে কী?
ভোরের ডাক ডেস্ক
সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৭ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। শুক্রবার দুপুরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের একটি ঘোষণা প্রকাশ এবং মাত্র এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ের মধ্যে তা প্রত্যাহার করে নেওয়াকে ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা।

শুক্রবার বেলা ২টা ১৩ মিনিটে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি নাভিকা গুপ্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, শনিবারের নিয়মিত ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না। কারণ হিসেবে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জানানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ওই সময়ে পূর্ণাঙ্গ মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপতি ভবনের এই ঘোষণা প্রকাশের পরপরই তা ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) প্রকাশ করে। এতে তারেক রহমানের ভারত সফর প্রায় চূড়ান্ত, এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন মহলে শুরু হয় নানা আলোচনা।

তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে সফর নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি ভবনের ওই ঘোষণা সঠিক নয়। এরপর পিআইবির ওয়েবসাইট থেকেও বিজ্ঞপ্তিটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

বেলা ৩টা ৩২ মিনিটে নাভিকা গুপ্তও আগের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের কথা জানান। তবে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘোষণা প্রকাশ করা হলো এবং মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে তা প্রত্যাহার করা হলো, এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

সফর কি সত্যিই চূড়ান্ত হয়েছিল?

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কয়েক দিন ধরেই ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। একপর্যায়ে ধারণা করা হচ্ছিল, ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে অংশ নেওয়ার আগেই তিনি দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যেতে পারেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর দিল্লি সফরের পর সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয় বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।

সংশ্লিষ্ট মহলে এমনও আলোচনা ছিল, ২২ আগস্ট শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের নিয়মিত ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান বাতিল এবং ২৪ আগস্ট হায়দরাবাদ হাউসে নৈশভোজের আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এমনকি কয়েকজন আমন্ত্রিত ব্যক্তির কাছে আমন্ত্রণপত্র পাঠানোর কথাও শোনা যায়। তবে এসব তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

নেপথ্যে কি শেখ হাসিনা ইস্যু?

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার পেছনে শেখ হাসিনা ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির কাছে দাবি জানিয়ে আসছে। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়েও ঢাকার অসন্তোষ রয়েছে।

সফরের আগে এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে কিছু নিশ্চয়তা বা শর্তের বিষয় আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে। ফলে সফরের সম্ভাবনা জোরালো হওয়ার পর আবারও তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়াকে কূটনৈতিক মহল গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

দিল্লির সঙ্গে আরও যেসব বিষয়ে টানাপোড়েন

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের পাশাপাশি সীমান্ত, অবৈধ অভিবাসন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়েও ঢাকা-দিল্লির মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

অন্যদিকে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার চীন, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে। ফলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তনের বিষয়টিও নয়াদিল্লির জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

সফর কি পুরোপুরি বাতিল?

এ মুহূর্তে তারেক রহমানের ভারত সফর পুরোপুরি বাতিল হয়েছে—এমন কোনো সরকারি ঘোষণা নেই। বরং দুই দেশের মধ্যে সফর নিয়ে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে তা জানানো হবে।

অর্থাৎ, চলতি আগস্টে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত অনিশ্চিত। তবে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকায় সফরটি ভবিষ্যতে হতে পারে বলেও সম্ভাবনা রয়েছে।

এখন নজর ঢাকা-দিল্লির আলোচনায়

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এখন শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফরের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, সীমান্ত, বাণিজ্য, নিরাপত্তা, পানি এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

রাষ্ট্রপতি ভবনের ঘোষণা কীভাবে প্রকাশ পেল এবং কেনই বা তা এক ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করা হলো—এই প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনাটি যে সফর নিয়ে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

এখন দেখার বিষয়, ঢাকা ও নয়াদিল্লি আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না এবং শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফরের দিনক্ষণ কবে চূড়ান্ত হয়।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: