খাদ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম কর্মদিবসেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সেবার মান বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন নবনিযুক্ত খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে। সরকারি খাদ্য কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ও সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
রবিবার (২৩ আগস্ট) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান বিভিন্ন কর্মসূচি, খাদ্যশস্য সংগ্রহ, সরকারি মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে খাদ্যমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। এ সময় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও অগ্রগতি নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করা হয়।
উপস্থাপনায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সরকারি খাদ্য মজুত ব্যবস্থাপনা, কৃষকের কাছ থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ এবং ভোক্তাদের জন্য খাদ্য সরবরাহসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
মতবিনিময় সভায় খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি খাদ্য কর্মসূচিগুলো আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধবভাবে বাস্তবায়নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘দৃশ্যমান পরিবর্তনের মাধ্যমে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করতে হবে।’ এ জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
খাদ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি খাদ্য কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। খাদ্যশস্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিতরণের প্রতিটি পর্যায়ে দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আফরোজা খানম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ও সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ঐক্যবদ্ধভাবে ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই মিলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে ইতিবাচক ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে চাই। জনগণের কল্যাণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, দক্ষতা ও সেবার মান আরও বাড়াতে হবে।
মতবিনিময় সভায় কর্মকর্তারা নবনিযুক্ত খাদ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভায় খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।