গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। জনগণের এই রায় বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্য কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখাবে না।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে দৈনিক সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের চেয়ে এই মুহূর্তে বড় কোনো ইস্যু নেই। জনগণের ঐতিহাসিক রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ‘তিল পরিমাণ ছাড়’ দেওয়া হবে না। সংসদ এ বিষয়ে ব্যর্থ হলে জামায়াতে ইসলামী জনগণের কাছে ফিরে যাবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী দলের অনুপস্থিতি গণতান্ত্রিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। এ পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করতে চায়।
প্রথাগত সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার রাজনীতির পরিবর্তে ‘ইনসাফভিত্তিক’ সংসদীয় চর্চায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিরোধী দল মানেই শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়। সরকার জনকল্যাণমূলক ও ভালো উদ্যোগ নিলে তাতে সহযোগিতা করা এবং জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের গঠনমূলক প্রতিবাদ করাই তাদের নীতি।
তিনি আরও বলেন, অতীতের ব্যর্থ ও নেতিবাচক বিরোধী রাজনীতির ধারা থেকে বেরিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে।
সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও মতবিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সভায় সংবাদপত্রের সম্পাদকরা জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।
তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো বিরোধী দলকে সরকারের ভালো কাজে সমর্থন এবং মন্দ কাজের প্রতিবাদ—এমন ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের চেষ্টা করতে দেখে সম্পাদকরা এটিকে রাজনীতির ইতিবাচক বিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মতবিনিময় সভায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে ১১ দলীয় ঐক্যের ভূমিকা, বর্তমান জাতীয় সংকট এবং ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ছয় মাসের সংসদীয় কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের এটিই প্রথম উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা বলে জানানো হয়েছে।