‘গ্যাস নেই’ সাইনবোর্ড, পাম্পের সামনে গাড়ির দীর্ঘ সারি

রাজধানী

রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও রেন্ট-এ-কারের চালকেরা। সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভোর থেকে বিভিন্ন

2026-08-23T20:51:04+00:00
2026-08-23T20:51:04+00:00
  সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬,
৯ ভাদ্র ১৪৩৩
 
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
রাজধানী
‘গ্যাস নেই’ সাইনবোর্ড, পাম্পের সামনে গাড়ির দীর্ঘ সারি
রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫১ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও রেন্ট-এ-কারের চালকেরা। সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভোর থেকে বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না গ্যাস।

রবিবার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, বাড্ডা, রামপুরা, মিরপুর, গাবতলী, ডেমরা, মুগদা, মানিকনগর, সবুজবাগ, খিলগাঁও, বনশ্রী ও হাজীপাড়া এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

চালকদের অভিযোগ, গ্যাস সংকট কয়েক দিন ধরে থাকলেও রোববার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেক পাম্পে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কোথাও গ্যাস মিললেও চাপ এত কম যে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করায় চালকদের কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশ নষ্ট হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় আয়ও কমে গেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গাড়ির দৈনিক জমা ও অন্যান্য খরচ।

গাবতলীর মোহনা ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষমাণ প্রাইভেটকার চালক খলিল বলেন, গভীর রাতে সামান্য গ্যাস পাওয়া গেলেও দিনে প্রায় পাওয়া যাচ্ছে না। দেড় ঘণ্টার মতো লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিয়ে মাত্র দুটি ট্রিপ দিতে পেরেছেন। এরপর আবার গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে।

ডেমরা এলাকার বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে। চালকদের চার ঘণ্টার বেশি সময় পর্যন্ত লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে যাত্রী পরিবহন কমে যাওয়ায় আয়-রোজগার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।

রাসেল ফিলিং অ্যান্ড সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষমাণ রেন্ট-এ-কার চালক মো. বশির হাওলাদার বলেন, গ্যাসের জন্য তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে থাকতে হচ্ছে। এ কারণে দূরপাল্লার যাত্রী নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, যাত্রী গাড়িতে রেখে গ্যাস নিতে গেলে এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

মুগদা, মানিকনগর, সবুজবাগ, খিলগাঁও, বনশ্রী ও হাজীপাড়া এলাকাতেও গ্যাসের চাপ ছিল কম। কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে ‘গ্যাস নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখতে দেখা গেছে।

শান্ত ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষমাণ চালক কবির হোসেন বলেন, সকাল ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও গ্যাস নেওয়ার সুযোগ পাননি।

তিনি বলেন, গ্যাস না পেলেও গাড়ির মালিককে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ টাকা জমা দিতে হয়। ফলে একদিকে আয় হচ্ছে না, অন্যদিকে দৈনিক খরচ ঠিকই দিতে হচ্ছে।

উত্তরা ও আশপাশের এলাকাতেও গ্যাস সংকট তীব্র। সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক সিএনজি স্টেশন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। যেসব স্টেশনে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেও কম চাপের কারণে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানজট।

খন্দকার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কামাল আহমেদ বলেন, রাজধানীর পরিবহনের বড় একটি অংশ সিএনজির ওপর নির্ভরশীল। গ্যাসের চাপ কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।

সিএনজিচালক জসিম বলেন, রাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু এখনো গ্যাস পাননি। তাঁর ভাষ্য, এভাবে চলতে থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

গ্যাস সংকটের কারণে শুধু চালকরাই নয়, যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় পাম্পে অপেক্ষা করায় কমে যাচ্ছে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক গণপরিবহন ব্যবস্থা।

চালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, সংকট দীর্ঘায়িত হলে পরিবহন খাতে এর প্রভাব আরও ব্যাপক হতে পারে।


Loading...
Loading...

রাজধানী- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: