রাজধানীর বনশ্রীতে ডাকাতির খবর পেয়ে একটি বাসা ঘিরে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রায় অর্ধশত সদস্যের অভিযানে রাস্তার দুই পাশ বন্ধ করে দেওয়া হলেও প্রায় এক ঘণ্টা তল্লাশি শেষে ডাকাতি বা সন্দেহজনক কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মেলেনি।
বরং যে ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তাকেই সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১টা থেকে সোয়া ২টা পর্যন্ত বনশ্রীর সি ব্লকের ২ নম্বর রোডে ডিবির মতিঝিল বিভাগের একটি দল এ অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় সম্ভাব্য পালানোর পথ বন্ধ করতে গলির মুখে বালুভর্তি ট্রাক রাখা হয়। সড়কের দুই পাশেও পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ডিবি সূত্র জানায়, একটি বাসায় ডাকাতির প্রস্তুতি বা ডাকাতির ঘটনা ঘটতে পারে এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে যায়। তবে বাসাটি ঘিরে তল্লাশি চালিয়েও ডাকাতি কিংবা সন্দেহজনক কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পুলিশের দাবি, তথ্যদাতা নিজেও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তাদের নজরে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সাত-আটটি ডাকাতির মামলা রয়েছে বলেও প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ।
তবে তিনি কেন পুলিশকে এমন তথ্য দিয়ে অভিযান পরিচালনার পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদ হাসান জানান, দুপুরের দিকে ২ নম্বর রোডে হঠাৎ বিপুলসংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়। এক ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন। পরে তাকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযানের বিষয়ে ডিবির মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন, ডাকাতির একটি তথ্য পাওয়ার পর ডিবির একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। তবে তথ্যের ভিত্তিতে গিয়ে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
ফলে ডাকাতির খবর ঘিরে বড় ধরনের অভিযান হলেও ঘটনাস্থলে ডাকাতির কোনো প্রমাণ না মেলায় এখন পুলিশের নজর তথ্যদাতার উদ্দেশ্যের দিকে।