দশমিনায় পরীক্ষার নামে ফি আদায়ের অভিযোগ, তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিককে লাঞ্ছিতের দাবি

দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

সারাদেশ

পটুয়াখালীর দশমিনায় সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ১২ নম্বর

2026-08-23T19:12:06+00:00
2026-08-23T19:12:06+00:00
  সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬,
৯ ভাদ্র ১৪৩৩
 
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
দশমিনায় পরীক্ষার নামে ফি আদায়ের অভিযোগ, তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিককে লাঞ্ছিতের দাবি
দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১২ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
পটুয়াখালীর দশমিনায় সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ১২ নম্বর দশমিনা সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিককে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত এবং তাঁর ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ধারণ করা তথ্য মুছে ফেলার অভিযোগও উঠেছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা উপলক্ষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শ্রেণিভেদে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩০ টাকা এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৫৭ জন।

টাকা নেওয়ার কারণ হিসেবে ‘স্কাউট ফি’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।

তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মূল্যায়নসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রান্তিক মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি নেওয়ার নিয়ম নেই। প্রশ্নপত্রের ফটোকপি, উত্তরপত্রসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় বিদ্যালয়ের নির্ধারিত আনুষঙ্গিক খাত বা স্লিপ ফান্ড থেকে বহন করার কথা।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসেও দশমিনা উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তখন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক গণকণ্ঠের স্থানীয় সাংবাদিক মো. সবুজ হোসাইন লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় তাঁর ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ক্যামেরায় ধারণ করা তথ্য মুছে ফেলা হয় এবং তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেরি সুলতানা বুলু। তিনি বলেন, পরীক্ষার জন্য কোনো ফি নেওয়া হয়নি। ২০১৯ সালের স্কাউটের ফি নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: