পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে বন্দর মদনগঞ্জ বটতলা থেকে জুলুসটি বের হয়ে নবীগঞ্জ কবরস্থান এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে ইসলামিক ব্যক্তিত্ব আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র আগমন ও তাঁর আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই মানবজাতির প্রকৃত মুক্তি নিহিত।
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরত করার সময় নারী-পুরুষরা ‘ত্বলা আল বদরু আলাইনা’ গেয়ে পতাকা হাতে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। জশনে জুলুস ও মিলাদুন্নবী উদযাপন সেই আনন্দ ও ভালোবাসারই ধারাবাহিকতা।
মিলাদুন্নবী উদযাপনকে যারা ‘বিদআত’ বলে আখ্যায়িত করেন, তাদের সমালোচনা করে আল্লামা বাহাদুর শাহ বলেন, নবী (সা.)-এর যুগে কওমি মাদ্রাসা, পাকা মসজিদ, এসি, ফ্যান বা মাইকের মতো আধুনিক সুবিধা ছিল না। পরবর্তী সময়ে এসব ব্যবস্থার প্রচলন হয়েছে। তাঁর দাবি, একইভাবে সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন আয়োজনের ধরন পরিবর্তিত হলেও মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর জীবনাদর্শ স্মরণ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ শাহজালাল (র.), শাহ পরাণ (র.) ও ৩৬০ আউলিয়ার দেশ। অলি-আউলিয়ারা শান্তি, মানবতা ও দেশপ্রেমের যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা অনুসরণ করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আদর্শে অবিচল থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মত ও আদর্শের বিরুদ্ধে বিরোধের বিষয়ে বক্তব্যও দেন আল্লামা বাহাদুর শাহ। তিনি বলেন, সুন্নি ও সুফি আদর্শের বিরুদ্ধে কোনো চক্রান্ত হলে তা প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জশনে জুলুস ও আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, উদযাপন কমিটির সভাপতি মো. আবুল কাউছার আশা, সহসভাপতি ডা. মো. নায়েব আলী, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মিজানুর রহমান, সহসাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান গেলমান, ইসলামিক যুব ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাত হাসান রাব্বী, ইসলামী ছাত্রসেনা নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক আব্দুর রহমান ও সচিব মো. আব্দুর রহমান শান্তসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এ ছাড়া হিজবুর রাসূল (সা.), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমান অনুষ্ঠানে অংশ নেন।