নরসিংদীর মনোহরদীতে চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে আকলিমা বেগম (৩২) নামে এক রোগীর মৃত্যুর পর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে পৌরশহরের বাইপাস সড়কে অবস্থিত মনোহরদী ল্যাবএইড আই অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হাসপাতালটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
নিহত আকলিমা বেগম উপজেলার বীরমাইজদিয়া গ্রামের কবির হোসেনের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে পিত্তথলির টিউমারের অস্ত্রোপচারের জন্য আকলিমাকে মনোহরদী ল্যাবএইড আই অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালের চিকিৎসক রাহাত বিন কাশেম তাঁর অস্ত্রোপচার করেন।
অস্ত্রোপচারের পর আকলিমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১৯ আগস্ট বুধবার বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে রাজধানীর পপুলার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
আকলিমার মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যার পর স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা হাসপাতালে জড়ো হন। এ সময় হাসপাতালটিতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ক্ষুব্ধ স্বজন ও তাদের লোকজনই এ ভাঙচুর চালিয়েছেন। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
নিহতের ভাই নাসির বলেন, রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই আমরা তাঁর চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। হাসপাতালটি কে বা কারা ভাঙচুর করেছে, সে বিষয়ে আমাদের জানা নেই।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পিত্তথলির টিউমারের অস্ত্রোপচারের পর থেকেই আকলিমার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তাঁদের দাবি, চিকিৎসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা বা ভুল ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নরসিংদীর জেলা সিভিল সার্জন ডা. বুলবুল কবির বলেন, রোগীর মৃত্যু ও হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনায় শনিবার দুপুরে হাসপাতালটি পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মনোহরদী ল্যাবএইড আই অ্যান্ড জেনারেল প্রাইভেট হাসপাতালের পরিচালক সুকোমল মোদক বলেন, রোগীর স্বজনদের লোকজন হাসপাতালটি ভাঙচুর করেছে বলে তাঁরা ধারণা করছেন। তবে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে কারা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি ঘটনাটিকে পরিকল্পিত দুর্বৃত্তায়ন বলেও দাবি করেন।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, হাসপাতাল ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিএ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোগীর মৃত্যুর পেছনে চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ভুল ছিল কি না, তা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরই স্পষ্ট হবে।