যে বয়সে বই-খাতা হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা, সহপাঠীদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে মেতে ওঠার কথা—সেই বয়সেই ঘাতক ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেল পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানহা মনি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সন্তান হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছেন বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর এলাকার কাহারিয়াঘোনা ৫নং ওয়ার্ডে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তানহা মনি পশ্চিম বিনামারা মসজিদে নূরাইন জামে মসজিদের খতিব ও চকরিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মৌলানা জাফর আলম হামিদীর মেয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে কাহারিয়াঘোনা এলাকায় একটি ট্রাকের চাপায় গুরুতর আহত হয় তানহা মনি। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। মুহূর্তেই আনন্দের একটি পরিবার পরিণত হয় কান্নার ঘরে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ।
এদিকে দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত ট্রাকটি হারবাং এলাকার নাজিম উদ্দীন নামের এক ব্যক্তির।
স্থানীয়দের দাবি, ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করে এর মালিক নাজিম উদ্দীনকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ ঝরে যাওয়ার পর যেন ঘটনাটি কোনোভাবেই ধামাচাপা না পড়ে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হলে ভবিষ্যতে বেপরোয়া যান চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা যাবে।
তানহা মনির মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যে মেয়েটির মুখে আজ হাসি থাকার কথা ছিল, সেই মুখ আজ নিথর—বাবা-মায়ের বুকজুড়ে শুধু সন্তানের হারানোর হাহাকার।
এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।