অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই একের পর এক উইকেট হারানো টাইগাররা শেষ পর্যন্ত নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সর্বনিম্ন স্কোরে থেমেছে।
ম্যাচের প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের বিপর্যয়ের শুরু করেন মিচেল স্টার্ক। এরপর তার তাণ্ডবে মাত্র ২২ বলেই ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মাত্র ১২ রানেই নেই ৫ উইকেট। টপঅর্ডারের তিন ব্যাটারই ফেরেন কোনো রান না করে।
মমিনুল হক ১৬ বলে ৯ রান করে স্টার্কের শিকার হন। লিটন দাসও ফেরেন শূন্য রানে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ বল খেলেন মুশফিকুর রহিম। তিনিও ৫ রান করে প্যাট কামিন্সের বলে সাজঘরে ফেরেন।
এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে দলীয় ৩৬ রানে মিরাজ এবং ৩৮ রানে হাসান মাহমুদ আউট হলে আবারও বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
শেষ পর্যন্ত শরিফুল ইসলাম ও তাইজুল ইসলাম মিলে গুরুত্বপূর্ণ ২৫ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ৬০ রানের ঘরে নিয়ে যান। তাদের এই লড়াইয়ের কারণে আরও বড় লজ্জা থেকে রক্ষা পায় টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত শরিফুলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান স্টার্ক।
৬৪ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সর্বনিম্ন স্কোর। এর আগে তিনবার ৬৪ রানের চেয়েও কম রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।
২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ৪৩ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ, যা টেস্টে টাইগারদের সর্বনিম্ন স্কোর। ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপটাউন টেস্টে ৫৩ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। আর ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্টে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল ৬২ রানে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবার ৬৪ রানে থেমে সেই তালিকায় চতুর্থ স্থানে জায়গা হলো বাংলাদেশের।
বাংলাদেশের ১০ উইকেটই নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তিন পেসার। মিচেল স্টার্ক একাই শিকার করেছেন ৬ উইকেট, খরচ করেছেন মাত্র ১২ রান। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স পেয়েছেন ৩ উইকেট। বাকি উইকেটটি নিয়েছেন জশ হ্যাজেলউড।
বাংলাদেশের ইনিংসে ব্যাটারদের ব্যর্থতার বিপরীতে শেষ জুটির লড়াই শুধু দলকে ৪৩ রানের সর্বনিম্ন স্কোরের লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছে।