
মঙ্গলবার ফিফার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আইএফএর সভাপতি মোশে জুয়ারেস আগের সমর্থন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানান। সংস্থাটির বোর্ড সভায় সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
ইনফান্তিনোর জন্য ইসরায়েলের এই অবস্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের ফুটবল সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই উদ্যোগী। গত এপ্রিলে ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কংগ্রেসের সময় দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের এক ফ্রেমে আনার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিবরিল রাজুব ইসরায়েলি প্রতিনিধির পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানালে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
তাতেও উদ্যোগ থামাননি ইনফান্তিনো। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় নতুন অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে মুখোমুখি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে ফিফা ও উয়েফার বৈশ্বিক ফুটবল পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গভীর আস্থার সংকটের কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, দুই পক্ষের মতবিরোধ এখন শুধু প্রশাসনিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; তা নীতিগত ও মৌলিক প্রশ্নেও গড়িয়েছে।
এর আগে ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডও ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা, কনমেবল ও সিএএফসহ বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ফুটবল সংস্থা এখনো তার পাশে রয়েছে।
ইনফান্তিনোর ওপর চাপ বাড়ার আরেকটি কারণ, বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বেসরকারি খাতে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক। এর মধ্যেই ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুরকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
তবে ইনফান্তিনোর পক্ষে শক্ত সমর্থনও আছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি তাকে সরানোর চিন্তাকে ‘মারাত্মক ভুল’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
ফলে ফিফা নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ইনফান্তিনোকে ঘিরে সমর্থন ও বিরোধিতার পাল্লা ততই ভারী হচ্ছে।