বিদায়বেলায় কাঁদলেন, কাঁদালেন মেসি

আরাফাত রহমান

খেলা

যে মাঠে কতবার উল্লাসে কেঁপেছে গ্যালারি, যে মাঠে তাঁর পায়ের জাদুতে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য স্মৃতি, সেই মনুমেন্টালেই শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার

2026-10-07T11:25:43+00:00
2026-10-07T11:26:51+00:00
  বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬,
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
খেলা
বিদায়বেলায় কাঁদলেন, কাঁদালেন মেসি
আরাফাত রহমান
বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৫ এএম  আপডেট: ০৭.১০.২০২৬ ১১:২৬ এএম
বিদায়বেলায় কাঁদলেন, কাঁদালেন মেসি

যে মাঠে কতবার উল্লাসে কেঁপেছে গ্যালারি, যে মাঠে তাঁর পায়ের জাদুতে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য স্মৃতি, সেই মনুমেন্টালেই শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সিতে দাঁড়িয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না লিওনেল মেসি। বিদায়ের মুহূর্তে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়লেন বিশ্ব ফুটবলের এই মহাতারকা। আর তাঁর চোখের জল ছুঁয়ে গেল গ্যালারিতে থাকা হাজারো সমর্থকের হৃদয়। মেসি কাঁদলেন, কাঁদালেন গোটা মনুমেন্টালকে।

বিদায়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মেসির কণ্ঠেও তখন আবেগের ভার। কথার মাঝেই বারবার থেমে যাচ্ছিলেন তিনি। বললেন, ‘আমি যেতে চাই না, এই মাঠ ছেড়ে যেতে চাই না।’ ছোট্ট এই বাক্যেই যেন ফুটে উঠল তাঁর দীর্ঘ ফুটবলজীবনের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা—সময় থেমে থাকে না, কিংবদন্তিরাও একদিন বিদায়ের দরজায় এসে দাঁড়ান।

মনুমেন্টালের গ্যালারি তখন আর শুধুই একটি ফুটবল স্টেডিয়াম নয়; সেটি যেন হয়ে উঠেছিল মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার মানুষের সম্পর্কের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। একদিকে অশ্রুসিক্ত মেসি, অন্যদিকে তাঁকে বিদায় জানাতে আসা সমর্থকদের চোখেও জল। কেউ মোবাইলের ক্যামেরায় মুহূর্তটি ধরে রাখছিলেন, কেউ আবার প্রিয় তারকার নাম ধরে স্লোগান দিচ্ছিলেন। চারপাশের আবেগ যেন বলে দিচ্ছিল—এই বিদায় মেনে নেওয়া সহজ নয়।

একসময় আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যর্থতার দায়ও নিতে হয়েছে তাঁকে। জাতীয় দলের হয়ে শিরোপা জিততে না পারায় শুনতে হয়েছে তীব্র সমালোচনা। কিন্তু সময় বদলেছে। মেসিও বদলে দিয়েছেন নিজের গল্প। কোপা আমেরিকার শিরোপা, এরপর বহু প্রতীক্ষার বিশ্বকাপ জয়—এক এক করে পূর্ণ হয়েছে তাঁর অপূর্ণতাগুলো।

২০২২ সালের সেই বিশ্বকাপ জয় মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে এনে দেয় পূর্ণতার স্বাদ। কাতারের ফাইনালে বিশ্বকাপ হাতে তুলে নেওয়ার মুহূর্তটি হয়ে ওঠে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দৃশ্য। আর্জেন্টিনার মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মেসি তখন শুধু একজন অধিনায়ক ছিলেন না; হয়ে উঠেছিলেন একটি প্রজন্মের স্বপ্নপূরণের প্রতীক।

সেই মেসিই এবার দাঁড়িয়ে বিদায়ের সামনে।

জাতীয় দলের হয়ে তাঁর পথচলায় এসেছে অসংখ্য রাত—কখনো আনন্দের, কখনো হতাশার। এসেছে হার, কান্না, প্রত্যাবর্তন আর শেষ পর্যন্ত মহাসাফল্য। প্রতিটি বাঁকে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে তৈরি হয়েছে তাঁর গভীর এক সম্পর্ক। তাই মেসির বিদায় মানে কেবল একজন ফুটবলারের মাঠ ছাড়ার মুহূর্ত নয়; এটি একটি যুগের পর্দা নামার দৃশ্য।

মেসির চোখের পানি যেন সেই দীর্ঘ পথচলারই প্রতিচ্ছবি। সেই কান্নায় ছিল সাফল্যের আনন্দ, পরাজয়ের যন্ত্রণা, হারানো সময়ের স্মৃতি আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনিবার্য বাস্তবতা।

গ্যালারির মানুষগুলোও হয়তো তখন ফিরে যাচ্ছিলেন বহু বছর আগের সেই দিনগুলোতে—যেদিন এক কিশোর মেসিকে নিয়ে শুরু হয়েছিল স্বপ্ন দেখা। সেই কিশোরই একদিন হয়ে উঠেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।

বিদায়ের রাতে তাই কোনো পরিসংখ্যানই যথেষ্ট নয় মেসিকে বোঝানোর জন্য। গোল, অ্যাসিস্ট, শিরোপা কিংবা রেকর্ড—সবকিছুর বাইরে তাঁর সঙ্গে আর্জেন্টিনার মানুষের সম্পর্কটা আবেগের। সেই আবেগেরই বিস্ফোরণ ঘটল মনুমেন্টালে।

শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে ঘরের মাঠে দাঁড়িয়ে মেসি যখন চোখ মুছছিলেন, তখন গ্যালারির প্রতিটি করতালি যেন তাঁকে বলছিল—যেতে নাহি দিব হায়, তবু যেতে দিতে হয়।

মেসি হয়তো মাঠ ছাড়বেন। আর্জেন্টিনার জার্সি একদিন তুলে রাখবেন। কিন্তু যে ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন, সেটি থেকে যাবে। থেকে যাবে তাঁর পায়ের জাদুর স্মৃতি, বিশ্বকাপ হাতে তাঁর সেই ছবি, আর থাকবে মনুমেন্টালের সেই রাত—যেখানে একজন কিংবদন্তি কাঁদলেন, আর তাঁর সঙ্গে কাঁদল একটি গোটা ফুটবলপ্রেমী জাতি।



Loading...
Loading...

খেলা- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: