প্রশাসনে বড় পরিসরে উপসচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার ২৭৭ কর্মকর্তাকে উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে নিয়মিত কর্মকর্তার পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাস ও মিশনে কর্মরত ১৫ কর্মকর্তাও রয়েছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একটি প্রজ্ঞাপনে ২৬২ কর্মকর্তা এবং অন্যটিতে বিদেশে কর্মরত ১৫ কর্মকর্তাকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আপাতত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তাদের বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো তাদের নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করে কোনো পৃথক আদেশ জারি করা হয়নি।
৩১তম বিসিএসের কর্মকর্তারা অগ্রাধিকার
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের পদোন্নতিতে মূল বিবেচনায় ছিলেন ৩১তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত অন্যান্য ব্যাচের কর্মকর্তাদেরও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত অনুপাতে অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারাও এ পদোন্নতি পেয়েছেন।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনে বড় পরিসরে এটি দ্বিতীয় দফার পদোন্নতি। এর আগে গত ৯ জুলাই ১৭৯ কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল।
৭৫ শতাংশ প্রশাসন, ২৫ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডার
‘সরকারের উপসচিব, যুগ্ম-সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’ অনুযায়ী, উপসচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডার এবং ২৫ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাকে বিবেচনা করা হয়।
বিধিমালা অনুযায়ী, উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য সিনিয়র সহকারী সচিব পদে অন্তত পাঁচ বছর এবং সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ১০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। পাশাপাশি পদোন্নতির মূল্যায়নে নির্ধারিত বেঞ্চমার্কে অন্তত ৮৩ নম্বর পাওয়ার শর্ত রয়েছে।
আপাতত ওএসডি, পরে হবে পদায়ন
পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে যোগদানপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। সরাসরি কিংবা ই-মেইলের মাধ্যমেও যোগদানপত্র পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে পদোন্নতি পেলেও আপাতত নতুন কর্মস্থলে যাচ্ছেন না কর্মকর্তারা। তাদের ওএসডি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও মাঠ প্রশাসনে তাদের পদায়ন করা হতে পারে।
বিরূপ তথ্য পেলে বাতিল হতে পারে পদোন্নতি
প্রজ্ঞাপনে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে সতর্কতাও উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে বিরূপ বা ভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া গেলে তার পদোন্নতির আদেশ প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন বা বাতিল করার অধিকার সরকার সংরক্ষণ করেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, একসঙ্গে ২৭৭ কর্মকর্তাকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ায় প্রশাসনের মধ্যম পর্যায়ের শূন্যতা পূরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত পদায়ন করা হলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রমে আরও গতি আসতে পারে।