ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভালো ও উন্নয়নমূলক কাজ করতে গিয়ে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী ঝামেলা বা বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করলে অতীতের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবিলা করে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (১৫ আগস্ট) উত্তরায় ডিএনসিসি আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে যারা রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এখানে উপস্থিত রয়েছেন, তারা বিভিন্ন সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। তাঁর জীবদ্দশায় দোয়া মাহফিল, কেক কাটা ও বিভিন্ন আনন্দ আয়োজন করা হতো। এখন তিনি আমাদের মাঝে নেই। এ দিনে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমাদের প্রিয় নেত্রীকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।
তিনি বলেন, যতদিন বেঁচে থাকব, বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি যেভাবে দেশের ও মানুষের জন্য কাজ করেছেন, সেই কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখব।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘আপনারা আমাদের দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও সহযোদ্ধা। ভালো ও উন্নয়নমূলক সব কাজে আপনারা আমাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করবেন।’
ঢাকাকে ‘ক্লিন ও গ্রিন’ করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সবার সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ করার জন্য কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে মিয়াকো বনে ইতোমধ্যে ৩০ হাজারের বেশি গাছ লাগানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত জায়গাগুলোতে বৃক্ষরোপণ করা হবে। অতি দ্রুত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিয়াকো বন পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা আমাদের কাজ করব। এরপর আপনাদের এলাকার এই বনটি, যেখান থেকে আপনাদের পরিবারের সন্তানরা অক্সিজেন গ্রহণ করবে এবং একটি সুন্দর পরিবেশ পাবে, সেটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আপনাদের।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা দেশের জনগণের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ক্লিন ঢাকা ও গ্রিন ঢাকা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানের নেওয়া উদ্যোগ ব্যক্তিগত নয়, এটি সরকারের উদ্যোগ। তাই সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।