রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর ব্যস্ততম শাহবাগ মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) শাহবাগ মোড়ে এ সিগন্যাল ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা তীব্র যানজট। যানজটের কারণে প্রতিদিন নাগরিকদের বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এ সমস্যা টেকসইভাবে মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন চলাচলকে আরও নিয়মতান্ত্রিক ও গতিশীল করতে পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ডিএসসিসির আওতাধীন আটটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে এ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এগুলো হলো—বাংলামটর, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, মিন্টো রোড, কাকরাইল সার্কেল, মৎস্য ভবন, কদম চত্বর, শিক্ষা ভবন ও শাহবাগ মোড়। এর মধ্যে শাহবাগ মোড়ে বৃহস্পতিবার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে সিগন্যালটি চালু করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় এ আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।
প্রশাসক জানান, প্রাথমিক উদ্যোগের পর আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে শিগগিরই ডিএসসিসির আওতাধীন আরও ২২টি ইন্টারসেকশনে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
তিনি বলেন, স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে ইন্টারসেকশনগুলোতে ট্রাফিক পুলিশকে আগের মতো সার্বক্ষণিক ম্যানুয়ালি সংকেত দিতে হবে না। এতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও কার্যকর হবে।
তবে প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থা সফল করতে আইন মেনে চলা ও নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সড়কে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধ করার পাশাপাশি চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করার প্রবণতা পরিহারের আহ্বান জানান।
চালকদের ট্রাফিক সতর্কীকরণ সাইন, রোড মার্কিং, জেব্রা ক্রসিং ও নির্ধারিত লেন অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ইন্টারসেকশনে প্রতিবন্ধকতা ও ভাসমান দোকান না রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ সফল হলে রাজধানীর মানুষের কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের রোদ-বৃষ্টিতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালনের চাপও কমবে।
আধুনিক এ ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে জানিয়ে তিনি স্মার্ট ও গতিশীল নগরী হিসেবে ঢাকাকে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হাদিউজ্জামান এবং ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ আনিসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।