হকারদের জন্য হলিডে ও নাইট মার্কেট, রাস্তার ওপর বসার সুযোগ নেই

ভোরের ডাক ডেস্ক

রাজধানী

পরিচয়পত্র ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছাড়া কেউ হকারি করতে পারবেন না। পাশাপাশি নির্ধারিত এলাকার বাইরে হকারদের ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হবে

2026-08-12T17:01:56+00:00
2026-08-12T17:02:22+00:00
  বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬,
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
রাজধানী
হকারদের জন্য হলিডে ও নাইট মার্কেট, রাস্তার ওপর বসার সুযোগ নেই
ভোরের ডাক ডেস্ক
বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০১ পিএম  আপডেট: ১২.০৮.২০২৬ ৫:০২ পিএম
সংগৃহীত ছবি
পরিচয়পত্র ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছাড়া কেউ হকারি করতে পারবেন না। পাশাপাশি নির্ধারিত এলাকার বাইরে হকারদের ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।

বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুরা) সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাস্তার ওপর হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে প্রশস্ত ফুটপাতের নির্দিষ্ট অংশে তাদের বসার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া শুক্র ও শনিবার হলিডে মার্কেট এবং অফিস সময়ের পর মতিঝিলে নাইট মার্কেট চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নির্ধারিত এসব স্থানে হকারদের জন্য টয়লেট ও পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থাও রাখা হবে।

নগর ব্যবস্থাপনায় গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আব্দুস সালাম বলেন, নগরের সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্ব সম্পর্কেও সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে। সিটি করপোরেশনের সমালোচনাকে তিনি নেতিবাচকভাবে দেখেন না বলেও জানান।

জলাবদ্ধতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ পরিকল্পনা

ঢাকার জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, অনেক এলাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয় নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। ধানমন্ডি, নিউ মার্কেট, ঢাকা কলেজ ও গ্রিন রোড এলাকার পানি নিষ্কাশনের একটি পুরোনো পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা বেড়েছে।

তিনি বলেন, পুরোনো নিষ্কাশন পথটি পুনরায় কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তবে এ ধরনের কাজ এক-দুই মাসের মধ্যে শেষ করা সম্ভব নয়।

তাৎক্ষণিকভাবে জলাবদ্ধতা কমাতে পাম্প কেনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগে কোনো কোনো এলাকায় বৃষ্টির পানি কয়েক দিন পর্যন্ত জমে থাকত। এখন পাম্পের মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

পুরান ঢাকার অনেক ড্রেন পুরোনো ও ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে আব্দুস সালাম বলেন, ড্রেন ও খাল পরিষ্কারের কাজ চলছে। তবে বর্ষাকালে খননকাজে কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের সহযোগিতা চান

ড্রেনে পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও জানান তিনি। নাগরিকদের সচেতনতা ছাড়া শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে জলাবদ্ধতা ও পরিচ্ছন্নতার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

দোকানিদের দোকানের সামনে বিন বা বালতি রাখার অনুরোধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের কর্মীরা সেখান থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করবেন। তবে অনেক মার্কেট ও হকার এলাকায় ময়লা ফেলে যাওয়ায় আবারও পরিবেশ নোংরা হচ্ছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। কোথাও পানি জমে না থাকলে মশার লার্ভা জন্মানোর সুযোগ কমে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব ব্যক্তিগত জায়গায় সিটি করপোরেশনের কর্মীরা প্রবেশ করতে পারেন না, সেসব স্থানের মালিক বা ব্যবহারকারীকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

অঞ্চলভিত্তিক চলবে ব্যাটারিচালিত রিকশা

ব্যাটারিচালিত রিকশার বিষয়ে আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকার সব এলাকায় যাতে নির্বিচারে এসব রিকশা চলাচল করতে না পারে, সে জন্য অঞ্চলভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্দিষ্ট অঞ্চলের রিকশা ওই অঞ্চলের মধ্যেই চলবে এবং কিছু সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হতে পারে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের পর তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

নগর সংস্থাগুলোর সমন্বয় জরুরি

ডিএসসিসির রাজস্ব আয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রশাসক। দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আয় বাড়াতে সরকারের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে সিটি করপোরেশনের ব্যয় থাকলেও সংশ্লিষ্ট কিছু রাজস্ব অন্য সরকারি সংস্থার কাছে চলে যায়। এসব রাজস্বের একটি অংশ সিটি করপোরেশনকে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ঢাকার সমস্যা সমাধানে শুধু সিটি করপোরেশন নয়, ওয়াসা, রাজউক, বিদ্যুৎসহ নগরসেবার সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিভিন্ন উন্নয়নকাজে রাস্তা কাটার পর সময়মতো তা মেরামত না হওয়ায় সিটি করপোরেশনকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এ কারণে নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বিতভাবে কাজ করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

নাগরিকদের উদ্দেশে আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা শহরের সমস্যা শুধু প্রশাসক বা সরকারের একার নয়। নগরের বাসিন্দা হিসেবে সবাইকে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। জনগণ, গণমাধ্যম ও সিটি করপোরেশন একসঙ্গে কাজ করলে আগামী দুই বছরে ঢাকা শহরের চেহারা পাল্টে দেওয়া সম্ভব।


Loading...
Loading...

রাজধানী- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: