কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়িতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত হয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার মোল্লাতেঘরিয়ায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি জানান সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা।
সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আমির হামজা বলেন, তাঁর গাড়ির সামনে ও পেছনে পুলিশের গাড়ি ছিল এবং সেখানে ১৫ থেকে ১৬ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। এরপরও তাঁর ওপর হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জেলার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
আমির হামজা সর্বস্তরের মানুষকে ধৈর্য ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তবে প্রশাসন দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হলে কুষ্টিয়ার শান্তিকামী মানুষ রাজপথে কঠোর জবাব দেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক দাবি করেন, আমির হামজার গাড়িতে হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। তাঁর অভিযোগ, হামলায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট দলের নেতাকর্মীরাও অংশ নিয়েছেন। ভিডিও ফুটেজে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে আমির হামজা বলেন, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা তাঁর গাড়িবহরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, কুষ্টিয়ার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অস্থিতিশীল করা এবং গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতেই এ হামলা করা হয়েছে।
হামলার ঘটনায় তিন দফা দাবি তুলে ধরেন তিনি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের গ্রেপ্তার, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত রেখে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলে আমির হামজা বলেন, তাঁর গাড়ির সামনে সদর থানার ওসি এবং পেছনে সেকেন্ড ওসির গাড়ি ছিল। এরপরও হামলার সময় পুলিশ কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে আমির হামজার গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে গণঅধিকার পরিষদের অফিস ও জেলা কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হন।