বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি শিগগিরই আসতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নতুন কমিটির বিষয়ে আভাস দেওয়ার পাশাপাশি নিজের জীবনে নতুন অধ্যায় শুরুর কথাও জানান।
রাকিব লিখেছেন, ‘একটা নতুন জীবন শুরু করতে চাই। নিজেকে আরও বেশি পরিশুদ্ধ,মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়তে চাই। ভুল ত্রুটির ঊর্ধ্বে কেও না, সেহেতু দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে আমারও ভুল ত্রুটি রয়েছে, কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল। পরিশেষে ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন, সেই প্রত্যাশা রইল।’
নিজের দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি আরও লিখেছেন, ‘মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট লাখো কোটি শোকরিয়া,অনেক বেশি সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে।’
দীর্ঘদিন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রাকিব। তিনি লিখেছেন, ‘দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনে সুযোগ প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিএনপির সদ্য বিদায়ী সম্মানিত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিএনপি'র শ্রদ্ধেয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল ভাই সহ বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতৃবৃন্দের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।’
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাকিব লিখেছেন, ‘অশেষ কৃতজ্ঞতা ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সম্মানিত নেতৃবৃন্দ,ঢাবি,জবি, জাবি,বেসরকারি বি,রাজশাহী বি,চট্টগ্রাম বি,শেরে বাংলা কৃষি বি,বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ,কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দের প্রতি যাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও প্রচেষ্টায় আমরা সফলভাবে কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃত্ব পরিচালনা করতে পেরেছি। বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি, ঢাকার ৫ কলেজ এবং চার মহানগরের নেতৃবৃন্দদের প্রতি যাদের শ্রম-ঘামে রাজপথের কর্মসূচিগুলো সফল হয়েছে এবং শত ষড়যন্ত্রকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করেছে। আমি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ,সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়, সবগুলো কলেজ এর নেতৃবৃন্দের নিয়ে আমৃত্যু গর্বিত, কারণ আমার এ সকল নেতৃবৃন্দের নামে কোন প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত খবরের শিরোনাম হয়নি। প্রচন্ড আর্থিক টানাপোড়েনের মাঝেও তারা অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সহিত নিজেদের আওতাধীন ইউনিটকে নেতৃত্ব প্রদান করেছে। শুধু নিজে সৎ ও পরিশ্রমী নয়, তাদের আওতাধীন নেতা-কর্মীদেরও সত্যিকারের সততা,নীতি ও আদর্শ নিয়ে পথ চলতে অনুপ্রাণিত করেছে।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতির পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করেছেন ছাত্রদল সভাপতি। তিনি লিখেছেন, ‘আমি বিশেষভাবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাবোধ থেকে বলছি,সবগুলো ক্যাম্পাসে আমি ব্যক্তিগতভাবে ইতিবাচক ছাত্র রাজনীতি বিকাশে চেষ্টা করেছি। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দ্বারা ক্যাম্পাসগুলোতে একজন সাধারণ শিক্ষার্থীও যেন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন না হন, সেজন্য বিশেষ মনোযোগী ছিলাম। আমার নিজ দলের বাহিরেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে কোন বিষয়ে আমার সরাপন্ন হলে, আমি আমার জায়গা থেকে সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা করেছি। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভ্রাতৃপ্রতীম ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের প্রতি।’
নিজেদের কমিটির কার্যক্রমের উল্লেখ করে রাকিব লিখেছেন, ‘রাকিব-নাসির কমিটির মূল সফলতা হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান এ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে সমন্বয় করে কর্মসূচি প্রণয়ন এবং রাজপথে কার্যকরী বীরোচিত ভূমিকা পালন। ৫ আগষ্ট, ২০২৪ পরবর্তী বাস্তবতায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শত শত মবকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ধারাবাহিক বুলিংকে উপেক্ষা করে নেতৃত্ব প্রদান করতে হয়েছে।’