সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সচিবালয়ের মতো নির্বাহী জায়গায় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের নজির তিনি জানেন না।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সচিবালয় হলো একটা নির্বাহী জায়গা। এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে, এমন ইতিহাস বা অতীতের রেকর্ড আমাদের জানা নেই। এই কাজটি তারা করছেন। তাহলে তারা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখেন? আমার দলের মতো হলে গণতন্ত্র, না হলে স্বৈরতন্ত্র -এমন হলে তো চলবে না।’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকারের গত পাঁচ-ছয় মাসের কার্যক্রমে অতীতের সঙ্গে কোনো পরিবর্তন নেই বলে বিএনপি মহাসচিব মন্তব্য করেছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের অংশগ্রহণের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার স্বার্থে তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আযাদ বলেন, ‘জিতব না হারব, এটা বড় বিষয় নয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক, আমরা তা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র চর্চায় নতুন ধারা সৃষ্টি করতে চায় ১১ দলীয় জোট। তাঁর দাবি, বিএনপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে রাখায় নির্বাচনের ফল নিয়ে তাদের নিরাপদ অবস্থান তৈরি হয়েছে।
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের প্রশংসা করে আযাদ বলেন, তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। দেশের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখেছেন তিনি। একসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য থাকা অলি আহমেদ পরবর্তী সময়ে আলাদা দল গঠন করেন এবং বর্তমানে ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে রাজনীতি করছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোটের সুযোগ না থাকায়ও সমালোচনা করেন জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না।
বিএনপি চাইলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোটের বিধান চালু করতে পারত বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে এমপিদের স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতো।
আযাদ বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় গণতান্ত্রিক সংস্কারের সুযোগ নষ্ট হয়েছে। তাঁর দাবি, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হলে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোটের সুযোগ তৈরি হতো এবং কর্নেল অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রাখতেন।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আযাদ বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকা পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের সেই বিধান অনুযায়ীই ভোট দিতে হবে।
এ সময় নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সামসুল আলমকে নিয়েও অভিযোগ তোলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী। তিনি দাবি করেন, সামসুল আলম আগে বিএনপির সঙ্গে ছিলেন এবং পরে ইসির অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনকে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করার চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ সত্য।
এ সময় জামায়াত, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, লেবার পার্টি, এলডিপি, জাগপা, খেলাফত আন্দোলন, এবি পার্টি ও নেজামে ইসলামী পার্টির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।