
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ফলে প্রথম ইনিংসেই বড় লিডের সুযোগ তৈরি হয় বাংলাদেশের সামনে।
দ্বিতীয় দিনের মূল নায়ক অবশ্য ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান তামিম। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের স্মরণীয় এক সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এই ওপেনার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে রেকর্ডবুকে নাম লেখান তিনি। নাথান লায়নের বলে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ১০১ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তানজিদ।
দিনের শুরুতে মুমিনুল হকের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ১০২ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের ইনিংসকে এগিয়ে নেন তানজিদ। পরে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে আরও ৯৩ রান যোগ করেন তিনি। তাঁর ব্যাটেই মূলত বড় লিডের ভিত শক্ত হয় বাংলাদেশের।
তানজিদের পর সেঞ্চুরির পথে এগোচ্ছিলেন শান্তও। তবে ৮৪ রানে তাঁর প্রতিরোধ থামিয়ে দেন জশ হ্যাজলউড। স্লিপে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
শান্তর বিদায়ের পর দ্রুতই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমও। চোট কাটিয়ে দলে ফেরা লিটন রানের খাতা খোলার আগেই আউট হন। আর উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি মুশফিক; তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান।
এরপর মনে হচ্ছিল, শেষ সেশনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা অস্ট্রেলিয়ার হাতে চলে যাচ্ছে। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন। সপ্তম উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আসে ৪৩ রান। মিরাজ ৩২ ও হাসান ১৩ রানে অপরাজিত থেকে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন।
এর আগে দ্বিতীয় দিন শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের ৯৬ রানে ১ উইকেট নিয়ে। মুমিনুল ৩৫ এবং তানজিদ ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। দিনের প্রথম সেশনে ৮৫ রান যোগ করে বাংলাদেশ হারায় মুমিনুলকে। ৪৯ রানে থামেন তিনি।
দ্বিতীয় সেশনেও বাংলাদেশের ব্যাটারদের দাপট অব্যাহত ছিল। ১০৫ রান যোগ করলেও ওই সেশনে হারায় মাত্র একটি উইকেট—তানজিদের। শেষ সেশনে দ্রুত তিন উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া কিছুটা স্বস্তি পেলেও দিনের সার্বিক চিত্রে এগিয়ে বাংলাদেশই।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন জশ হ্যাজলউড ও মিচেল স্টার্ক। মজার ব্যাপার, দুজনই খরচ করেছেন সমান ৬৮ রান। প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন পেয়েছেন একটি করে উইকেট।
দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের হাতে চার উইকেট। লিডও দেড়শ ছাড়িয়েছে। এখন মিরাজ-হাসানের প্রতিরোধ কতদূর গড়ায় এবং বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সামনে কত বড় লক্ষ্য দাঁড় করাতে পারে—ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনে সেটিই হয়ে উঠবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।