
ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনটা যেন পুরোপুরিই বাংলাদেশের। বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে দিন শেষ করেছে দারুণ নিয়ন্ত্রণে। স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে দিনের শেষভাগে বাংলাদেশ তুলেছে ১ উইকেটে ৯৬ রান। স্কোরবোর্ডে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ১০২ রান পিছিয়ে থাকলেও হাতে রয়েছে ৯ উইকেট। অর্থাৎ প্রথম দিনের শেষ হাসিটা বাংলাদেশেরই।
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা হয়েছিল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। সাদমান ইসলাম ও তানজিদ হাসান তামিম নতুন বলের সুইং-বাউন্স সামলে বেশ সাবলীলভাবেই এগোচ্ছিলেন। কিন্তু নবম ওভারেই থামে সাদমানের পথচলা। মিচেল স্টার্কের পায়ের ওপর করা বলটি অন সাইডে খেলতে গিয়ে বাড়তি বাউন্সে ব্যাটের কানায় লাগে। কভার পয়েন্টে নাথান লায়নের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩০ বলে ২০ রান করা সাদমান। ভাঙে ৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি।
তবে সাদমানের বিদায়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। তিন নম্বরে নেমে মুমিনুল হক বরং ইনিংসটাকে আরও স্থির করে তোলেন। প্রয়োজনের সময় রক্ষণ, সুযোগ পেলেই রান—এই কৌশলেই অজি বোলারদের ছন্দ নষ্ট করে দেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। ৪৯ বলে ৩৫ রান নিয়ে অপরাজিত মুমিনুল দিনের শেষ পর্যন্ত তানজিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে যান।
আর অন্য প্রান্তে ছিলেন তানজিদ হাসান তামিম- ধৈর্যের এক অসাধারণ প্রদর্শনী নিয়ে। টেস্ট ক্রিকেটে অভিজ্ঞতার দিক থেকে তিনি এখনো তরুণ। কিন্তু ডারউইনের কঠিন কন্ডিশনে তার ব্যাটিংয়ে ছিল পরিণত ভাব। অফ স্টাম্পের বাইরের বলগুলোতে অযথা হাত বাড়াননি, বোলারদের ফাঁদে পা দেননি। নিজের উইকেটকে গুরুত্ব দিয়ে খেলেছেন প্রতিটি বল। ৬৭ বলে ৩২ রান নিয়ে অপরাজিত থাকা তানজিদ দিনের শেষে বাংলাদেশের অন্যতম বড় স্বস্তির নাম।
তবে বাংলাদেশের আসল দাপট দেখা গেছে দিনের প্রথম দুই সেশনে। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে একের পর এক আঘাতে বিপর্যস্ত করে দিয়েছেন টাইগার পেসাররা। নতুন বল থেকে শুরু করে পরের দিকের স্পেল- প্রায় পুরো ইনিংসজুড়েই অজিদের ওপর চাপ ধরে রেখেছিলেন তারা।
সেই আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন হাসান মাহমুদ। একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট। ৫৫ রান খরচায় তার এই ছয় শিকার শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা বোলিং ফিগারও। হাসানের সঙ্গে অন্য পেসারদের কার্যকর আক্রমণে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থেমেছে মাত্র ১৯৮ রানে।
ঘরের মাঠে সাধারণত অস্ট্রেলিয়াই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। কিন্তু ডারউইনে প্রথম দিন দৃশ্যটা ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। ব্যাটিং-বোলিং—দুই বিভাগেই বাংলাদেশ ছিল বেশি নিয়ন্ত্রিত, বেশি আগ্রাসী এবং বেশি আত্মবিশ্বাসী। অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেট তুলে নেওয়ার পর দিন শেষে মাত্র একটি উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান—ফলাফল না হলেও প্রথম দিনের ক্রিকেটে এটুকু বলাই যায়, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের হাতেই।
এখন সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয় দিনে দ্রুত রান তুলে অস্ট্রেলিয়ার লিড মুছে ফেলে নিজেদের লিড তৈরি করতে পারলেই ম্যাচের সমীকরণ আরও বদলে যাবে। ডারউইনের প্রথম দিন বাংলাদেশকে শুধু স্বস্তি দেয়নি, দিয়েছে বিশ্বাসও- অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও ইতিহাস লেখা সম্ভব।