আজ ১৩ আগস্ট ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ও প্রথম নারী সুপারস্টার শ্রীদেবীর জন্মবার্ষিকী। দীর্ঘ পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে হিন্দি, তামিল, তেলেগু ও মালয়ালম চলচ্চিত্রে নিজের অভিনয় প্রতিভার অনন্য স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। রোম্যান্স থেকে কমেডি, অ্যাকশন থেকে আবেগঘন চরিত্র-বৈচিত্র্যময় সব ভূমিকায় সমান দক্ষতায় নিজেকে মেলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী। জন্মবার্ষিকীতে ফিরে দেখা যাক পর্দায় শ্রীদেবীর সেইসব কালজয়ী অভিনয়, যা তাকে আজও দর্শকের হৃদয়ে অমর করে রেখেছে।
জন্মবার্ষিকীতে তাই ফিরে দেখা যাক শ্রীদেবীর অভিনয়জীবনের ১০টি উল্লেখযোগ্য সিনেমা।
১. সাদমা
বালু মহেন্দ্র পরিচালিত ‘সাদমা’ শ্রীদেবীর অন্যতম প্রশংসিত সিনেমা। এতে তিনি দুর্ঘটনার পর মানসিকভাবে শিশুসুলভ হয়ে যাওয়া এক তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেন। কমল হাসান ছিলেন তার সহশিল্পী।
মুক্তির সময় বড় ব্যবসা না করলেও পরবর্তী সময়ে সিনেমাটি দর্শকের কাছে কাল্ট মর্যাদা পায়। বিশেষ করে শেষ দৃশ্যে শ্রীদেবীর অভিনয় আজও দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে।
২. মিস্টার ইন্ডিয়া
‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ শ্রীদেবীর ক্যারিয়ারের অন্যতম জনপ্রিয় সিনেমা। এতে সাংবাদিক সীমা সাহনির চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। অনিল কাপুরের সঙ্গে তার রসায়ন এবং কমেডি অভিনয় দর্শকের ব্যাপক প্রশংসা পায়।
‘হাওয়া হাওয়াই’ ও ‘কাঁটে নেহি কাট তে’র মতো গানও সিনেমাটিকে স্মরণীয় করে রেখেছে।
৩. নাগিনা
‘নাগিনা’তে শ্রীদেবীকে দেখা যায় এক অলৌকিক চরিত্রে। রাজনির চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মুগ্ধ করেন। তার বিপরীতে ছিলেন ঋষি কাপুর।
বিশেষ করে ‘ম্যায় তেরি দুশমন’ গানে শ্রীদেবীর নাচ তার ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত পারফরম্যান্স হয়ে আছে।
৪. চাঁদনি
যশ চোপড়ার ‘চাঁদনি’ শ্রীদেবীকে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় রোম্যান্টিক নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ঋষি কাপুরের সঙ্গে তার প্রেমের গল্প, সিনেমার গান ও মনোরম দৃশ্য দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়।
সাদা শিফন শাড়িতে শ্রীদেবীর উপস্থিতি বলিউডের রোম্যান্টিক সিনেমার অন্যতম পরিচিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।
৫. চালবাজ
‘চালবাজ’ সিনেমায় যমজ দুই বোন অঞ্জু ও মঞ্জুর চরিত্রে অভিনয় করেন শ্রীদেবী। সম্পূর্ণ বিপরীত স্বভাবের দুই চরিত্রে তার অভিনয় ছিল সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ।
কমেডি ও দ্বৈত চরিত্রে তার দক্ষতার কারণে ‘চালবাজ’ আজও শ্রীদেবীর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় সিনেমা।
৬. লামহে
যশ চোপড়া পরিচালিত ‘লামহে’ ছিল শ্রীদেবীর ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যতিক্রমী কাজ। এতে তিনি মা ও মেয়ের দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেন।
মুক্তির সময় প্রত্যাশিত ব্যবসা না করলেও সমালোচকদের প্রশংসা পায় সিনেমাটি। সময়ের সঙ্গে এটি যশ চোপড়ার অন্যতম সাহসী ও ভিন্নধর্মী সিনেমা হিসেবে পরিচিতি পায়।
৭. খুদা গাওয়াহ
অমিতাভ বচ্চন ও শ্রীদেবী অভিনীত ‘খুদা গাওয়াহ’ ছিল বড় পরিসরের অ্যাকশন-রোম্যান্স সিনেমা। এতে শ্রীদেবী বেনজির ও তার মেয়ে মেহেন্দি-দুটি চরিত্রে অভিনয় করেন।
সিনেমার গল্প, গান, পোশাক এবং অমিতাভ-শ্রীদেবীর অভিনয় দর্শকের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে আছে।
৮. হিম্মাতওয়ালা
জিতেন্দ্রর বিপরীতে অভিনীত ‘হিম্মাতওয়ালা’ শ্রীদেবীর তারকাখ্যাতি আরও বাড়িয়ে দেয়। তেলুগু সিনেমার হিন্দি রিমেক এই ছবিটি মুক্তির পর বড় ব্যবসায়িক সাফল্য পায়।
সিনেমার গ্ল্যামারাস উপস্থাপনার পাশাপাশি ‘নয়নে মে স্বপ্না’ গানটিও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল।
৯. ইংলিশ ভিংলিশ
প্রায় ১৫ বছর পর বড় পর্দায় ফিরে গৌরী শিন্ডের ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ দিয়ে নতুন করে দর্শকের মন জয় করেন শ্রীদেবী।
সিনেমায় সাধারণ গৃহবধূ শশী গোদবলের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ইংরেজিতে দুর্বলতার কারণে পরিবারের কাছ থেকে অবহেলার শিকার হওয়া শশীর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার গল্পই সিনেমাটির মূল বিষয়।
শ্রীদেবীর অভিনয় ও সিনেমার মানবিক গল্প ব্যাপক প্রশংসা পায়।
১০. মম
‘মম’ ছিল শ্রীদেবীর ক্যারিয়ারের শেষ বড় সিনেমা। এতে দেবকী সাবরওয়ালের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। মেয়ের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার পেতে ব্যর্থ হয়ে নিজেই ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে নামেন দেবকী।
আগের অনেক চরিত্রের তুলনায় এখানে শ্রীদেবীর অভিনয় ছিল অনেক বেশি সংযত ও গম্ভীর। অক্ষয় খান্না ও নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর অভিনয়ও সিনেমাটিকে আরও শক্তিশালী করে।
শ্রীদেবীর অভিনয়জীবনে ছিল নানা ধরনের চরিত্রের সমাহার। ‘সাদমা’র আবেগ, ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’র হাস্যরস, ‘চালবাজ’-এর দ্বৈত চরিত্র, ‘চাঁদনি’র রোম্যান্স কিংবা ‘মম’-এর গম্ভীর অভিনয়—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখেছেন তিনি।
তাই পর্দা থেকে বিদায় নিলেও ভারতীয় সিনেমায় শ্রীদেবীর অবদান ও অভিনয়ের স্মৃতি আজও দর্শকের কাছে সমান উজ্জ্বল।