অনলাইনে রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের বিরুদ্ধে নারীদের হয়রানি ও কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন অভিযোগ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর পোস্ট দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে।
‘মারুফ খান মুন্না’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে এসব করা হয়েছে বলে অভিযোগ বাঁধনের। ঘটনার কয়েকটি স্ক্রিনশট নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে এর জবাবও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে দেওয়া এক পোস্টে বাঁধন বলেন, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর তাঁর অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া শুধু হয়রানি নয়, এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁকে ভয় দেখিয়ে বা আতঙ্কিত করে চুপ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাঁধনের দাবি, একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের পক্ষ থেকে অনলাইনে নারীদের হয়রানি করা হচ্ছে। এবার তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও ওই ফেসবুক আইডি থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন অভিনেত্রী।
তবে এমন ঘটনায় ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই জানিয়ে বাঁধন বলেন, তাঁকে সহজে ভয় দেখিয়ে বা আতঙ্কিত করা সম্ভব নয়। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড তাঁকে চুপ করিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের বিরুদ্ধে নারীদের হয়রানির অভিযোগ বাঁধনের
পোস্টে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়েও কথা বলেন বাঁধন। তিনি জানান, নিজেকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখার জন্য থেরাপি নিয়েছেন এবং এখনো নিচ্ছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধও গ্রহণ করেছেন বলে জানান তিনি।
বাঁধন আরও বলেন, অতীতের নানা অভিজ্ঞতার পর নিজেকে মানুষ হিসেবে ধরে রাখতে তিনি মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিয়েছেন। ক্ষমতা কিংবা প্রতিহিংসা যেন তাঁকে বদলে না দেয়, সে বিষয়েও সচেতন থাকার কথা জানান অভিনেত্রী।
পোস্টের শেষ দিকে নিজের স্বভাবসুলভ দৃঢ়তার সঙ্গে বাঁধন জানান, তাঁকে ভয় দেখিয়ে খুব একটা লাভ হবে না। একই সঙ্গে নিজের সম্পর্কে একটি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেন তিনি।
এদিকে বাঁধনের পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ ও অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে অভিনেত্রীর অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন অনেকে।
তবে বাঁধনের অভিযোগের বিষয়ে ‘মারুফ খান মুন্না’ নামের ফেসবুক আইডির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।