ভারতের কর্নাটকে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমের মধ্যে নিজের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে দাবি করেছেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় প্রকাশ রাজ দাবি করেন, বেঙ্গালুরু কেন্দ্রের ৬৫ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় তার নামও রয়েছে। বিষয়টিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভালোই কৌতুক, খেলা মাত্র শুরু হলো।’
নিজের জন্ম ও বেড়ে ওঠার প্রসঙ্গ তুলে অভিনেতা বলেন, বেঙ্গালুরু কেন্দ্রেই তার জন্ম। ওই এলাকায় তার স্কুল, কলেজ ও থিয়েটারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
ভিডিও বার্তায় ভোটার তালিকায় নিজের নাম নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রকাশ রাজ আরও বলেন, ভোটার পরিচয় ফিরে পেতে তাকে কী ধরনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং কী কী নথি দিতে হবে, তা তিনি দেখতে চান।
এ সময় তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উদ্দেশে বলেন, ক্ষমতা প্রয়োগ করে কিছু নাগরিককে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা সম্ভব হলেও তাদের থামানো যাবে না। বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, ‘খেলা শুরু হয়েছে।’
প্রকাশ রাজের ভোটার তালিকায় নাম না থাকার দাবির পেছনে কর্নাটকের চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। এ প্রক্রিয়ায় ভোটারদের তথ্য যাচাই করে অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, দ্বৈত, মৃত বা অন্যান্য শ্রেণিতে থাকা ভোটারদের তথ্য আলাদা করা হচ্ছে।
কর্নাটকের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ৫ কোটি ৫৪ লাখ ৩২ হাজার ৩১৪ জন ভোটারের মধ্যে ১ কোটি ৯ লাখ ৮৩ হাজার ৯০১ জনকে এএসডিডিও শ্রেণিতে রাখা হয়েছে, যা মোট ভোটারের ১৯ দশমিক ৮১ শতাংশ।
এর মধ্যে বেঙ্গালুরু শহরে এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রাক-এসআইআর হিসাবে বেঙ্গালুরু শহরের ৪০ লাখ ২১ হাজার ৩৯ জন ভোটারের মধ্যে ১৭ লাখ ৭৪ হাজার ৬২৬ জনকে এএসডিডিও শ্রেণিতে রাখা হয়েছে, যা ৪৪ দশমিক ১৩ শতাংশ।
বৃহৎ বেঙ্গালুরু মহানগর পালিকার (বিবিএমপি) দক্ষিণ অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও বেশি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সেখানে ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৮৪ জন ভোটারের মধ্যে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৮২৯ জন এএসডিডিও শ্রেণিতে রয়েছেন, যা ৫০ দশমিক ৭২ শতাংশ।
এদিকে কর্নাটকে ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের সময়সীমা বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। নতুন সূচি অনুযায়ী, ১৭ আগস্টের মধ্যে ভোটারদের তথ্য গণনার কাজ শেষ হবে। ২৪ আগস্ট প্রকাশ করা হবে খসড়া ভোটার তালিকা।
খসড়া তালিকা নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে ২৪ আগস্ট থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এসব দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া চলবে ২৪ আগস্ট থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী ২৭ অক্টোবর কর্নাটকের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে।
প্রকাশ রাজের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার দাবির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন প্রকাশ রাজ। এর আগে একাধিক ভোটার পরিচয়পত্র রাখার অভিযোগেও আইনি জটিলতায় পড়েছিলেন তিনি। কর্নাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে একাধিক ভোটার আইডি থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন অভিনেতা।
সূত্র: এনডিটিভি