মাত্র ৩-৪ হাজার টাকায় নামিদামি ব্র্যান্ডের নতুন স্মার্টফোন বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে একটি চক্র। ফেসবুক ও ভুয়া অনলাইন শপের মাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে অগ্রিম টাকা নেওয়ার পর ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি ফেসবুকের নিউজফিডে ‘Modile Shop’ ও ‘BD Online Shop’ নামে দুটি পেজে বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক কম দামে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে। এসব বিজ্ঞাপনে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা দামের ফোন মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রির দাবি করা হচ্ছে। একটি বিজ্ঞাপনে একটি স্মার্টফোনের দাম দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ৫৯৯ টাকা।
ফোনের দাম এত কম কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে পেজ দুটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ফোনগুলো ভারত থেকে সীমান্ত দিয়ে শুল্ক ছাড়াই দেশে আসে। ফলে শুল্ক দিতে না হওয়ায় কম দামে ফোন বিক্রি করা সম্ভব।
এ ধরনের বিজ্ঞাপন দেখে বগুড়ার সান্তাহারের কয়েকজন যুবক ফোন কেনার জন্য পেজ দুটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের জানানো হয়, ফোন বুকিং ও কুরিয়ার খরচ বাবদ ৩১০ টাকা অগ্রিম দিতে হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পর আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি এবং ফোনও পাঠানো হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
পরে একই পেজে আবার যোগাযোগ করে ফোন কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে ৩১০ টাকা অগ্রিম চাওয়া হয়। পেজের পক্ষ থেকে বলা হয়, টাকা পরিশোধের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ‘Redmi 15 Pro’ কুরিয়ারের মাধ্যমে নির্ধারিত ঠিকানায় পাঠানো হবে।
বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য পেজ দুটির পক্ষ থেকে দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত এলাকার দুটি ঠিকানাও দেওয়া হয়। ‘Modile Shop’ থেকে হিলি বর্ডারের পাশে একটি মার্কেটের ঠিকানা এবং ‘BD Online Shop’ থেকে হিলি বর্ডার এলাকার একটি ইলেকট্রনিকস দোকানের ঠিকানা দেওয়া হয়।
তবে সরেজমিনে হিলি এলাকায় গিয়ে এসব ঠিকানার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেও ওই ভবন, মার্কেট বা দোকানের সন্ধান মেলেনি।
হিলি বাজারের মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী ‘হিমেল মিডিয়া’র এক ব্যবসায়ী জানান, অনলাইনে দেওয়া ঠিকানা খুঁজতে প্রায়ই বিভিন্ন মানুষ সেখানে আসেন। হিলি বাজারে মোবাইল ফোনের কয়েকটি দোকান থাকলেও পেজ দুটির দেওয়া ঠিকানার কোনো অস্তিত্ব নেই। সীমান্ত দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসা ফোন বিক্রির দাবিও বাস্তবসম্মত নয় বলে জানান তিনি।
সান্তাহারের মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী পলাশ দত্ত বলেন, বাজারমূল্যের তুলনায় এত কম দামে নতুন স্মার্টফোন বিক্রি করা বাস্তবসম্মত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে পণ্য কেনার আগে বিক্রেতা ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় যাচাই করা উচিত।
সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন বলেন, এ ধরনের ঘটনা বড় কোনো প্রতারণা চক্রের অংশ হতে পারে। একজনের কাছ থেকে অল্প পরিমাণ টাকা নেওয়া হলেও একই কৌশলে বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিলে প্রতারণার পরিমাণ বড় অঙ্কে দাঁড়াতে পারে। অনলাইনে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে যাচাই করা বিক্রেতা ছাড়া লেনদেন না করার পরামর্শ দেন তিনি।
সান্তাহার নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক চিকিৎসক হামিদুর রহমান রানা বলেন, অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখলে আগে প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ব্যবসায়িক পরিচয় ও পূর্বের ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে কুরিয়ার বা বুকিংয়ের নামে অগ্রিম টাকা চাওয়া হলে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।