চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। এবার সারাদেশে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফল প্রকাশ করেন।
পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন।
এবার মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। ফলে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
জিপিএ-৫-এ মেয়েরা এগিয়ে
ফলাফলে এবারও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫২ হাজার ৭৮০ জন ছাত্র এবং ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ১১ হাজার ১১৬ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের তুলনায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাই জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে।
শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠান কমেছে
এবার দেশের ৬৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৯৮৪টি। এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ৩১৫টি।
অন্যদিকে, এবার ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি। অর্থাৎ শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১৭৮টি।
শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্রের সংখ্যা
চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছিল প্রায় ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী। সারাদেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। এর মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে কেন্দ্র ছিল ৫১০টি, যা সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। ময়মনসিংহ বোর্ডে কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে কম, ১৮৮টি।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের জন্য কেন্দ্র ছিল ৭৪২টি।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। এসব পরীক্ষার্থীর জন্য কেন্দ্র ছিল ৬৫৩টি।
ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ
শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও ফলাফল জানতে পারছেন।
ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আগামী ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। কোনো পরীক্ষার্থী প্রকাশিত ফলে অসন্তুষ্ট হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা ২১ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০ মে শেষ হয়। এরপর দাখিল ও ভোকেশনালের তত্ত্বীয় পরীক্ষা ২৪ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। পরে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।