সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম দেওয়ার কর্মসূচি আগামী ১৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। প্রথমবারের মতো উদ্বোধন হতে যাওয়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং তাদের জন্য সমান সুযোগভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্মসহ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এরই মধ্যে নতুন ইউনিফর্মের মডেল নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী, ছাত্রীদের জন্য ফ্রক এবং ছাত্রদের জন্য হাফশার্ট ও শর্টস রাখা হয়েছে। পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে আরাম, ব্যবহারিক সুবিধা ও সব শিক্ষার্থীর মধ্যে একরূপতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় নতুন ইউনিফর্মের মডেল উপস্থাপন করা হয়। ওই সভায় জানানো হয়েছিল, জুলাই থেকে প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাইলট প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে ইউনিফর্ম বিতরণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের বিষয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী অনুদান দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য স্কুলব্যাগ, পোশাক ও জুতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সরকার ইউনিফর্মের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলব্যাগ, জুতা ও মিড-ডে মিলসহ বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মিড-ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যেসব ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি পাইলট প্রকল্পের সফলতা শুধু কতজন শিক্ষার্থীর কাছে সেবা পৌঁছেছে, তা দিয়ে নয়; বাস্তবায়নের সময় কী ধরনের সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে এবং সেগুলো কতটা কার্যকরভাবে সমাধান করা গেছে, তার ভিত্তিতেও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সরকারের সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, জুতা ও মিড-ডে মিলের মতো সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা সহজ হবে। পাশাপাশি এসব উদ্যোগ শিশুদের জন্য আরও সুশৃঙ্খল ও সমান সুযোগভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।