এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। এবার সারাদেশে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০০৭ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ পয়েন্ট।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় একযোগে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ফল প্রকাশ করা হয়। পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন
চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।
বোর্ডভিত্তিক হিসাবে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
জিপিএ-৫ কমেছে ২২ হাজারের বেশি
এবার মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
এবার পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ জিপিএ-৫ পেয়েছে।
২০২১ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল রেকর্ড ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ। সেই তুলনায় এবারের ফলাফলে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই ক্ষেত্রেই এগিয়ে মেয়েরা
এবার পাসের হার এবং জিপিএ-৫—দুই ক্ষেত্রেই ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। চলতি বছর ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৪ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
অন্যদিকে ৯ লাখ ১১ হাজার ৭৯১ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৩৯ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী এবং ৫২ হাজার ৭৮০ জন ছাত্র।
মঙ্গলবার থেকে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন
প্রকাশিত ফলে সন্তুষ্ট না হলে শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে আবেদন করতে হবে।
প্রতিটি পত্রের জন্য পুনর্নিরীক্ষণ ফি ১৫০ টাকা। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে। বিকাশ, নগদ ও সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে।
একবার ফি জমা দিয়ে আবেদন সম্পন্ন করলে নির্বাচিত বিষয় বাতিল করা যাবে না এবং কোনো অবস্থাতেই পরিশোধ করা ফি ফেরত দেওয়া হবে না। শিক্ষা বোর্ডগুলো হাতে হাতে বা ম্যানুয়ালি পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করবে না।
একাদশে ভর্তিতে ফলই হবে প্রধান ভিত্তি
এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতেই চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আগের মতো কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাওয়া নম্বর ও শিক্ষার্থীর পছন্দক্রমের ভিত্তিতে কলেজে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে।
তবে নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজসহ চার্চ পরিচালিত কিছু প্রতিষ্ঠানে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
দেশের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন ২৬ লাখের বেশি। বিপরীতে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। ফলে অন্যান্য বছরের মতো এবারও একাদশ শ্রেণিতে প্রায় পৌনে আট লাখ আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি বছরের একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা ও আবেদন সূচি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশের পর ভর্তি কার্যক্রমের বিস্তারিত জানা যাবে।