কলম্বিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতায় নতুন অধ্যায় শুরু হলো ডানপন্থী নেতা আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ৪৮ বছর বয়সী এই নেতা দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। জুনের রান-অফ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি মাদকপাচার দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংযত আর্থিক নীতি অনুসরণের প্রতিশ্রুতি দেন।
নির্বাচনী প্রচারের সময় দে লা এসপ্রিয়েলা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি ব্যয় সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ কমানোর কথা জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তেল ও গ্যাস শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পেশায় সাবেক আইনজীবী এই নেতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যেই তাকে সমর্থন দিয়েছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে দে লা এসপ্রিয়েলার কোনো নির্বাচিত সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা ছিল না।
শপথের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর কালির পিচিঞ্চা ব্যাটালিয়ন সামরিক ঘাঁটিতে দেওয়া বক্তব্যে দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, আমি এসেছি এক জাতির আত্মসমর্পণের মানসিকতা ও হতাশার দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটাতে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের ভাগ্যের সবচেয়ে বড় রূপান্তরের পথে যাত্রা শুরু করতে চাই।
এর আগে পাশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে বিশিষ্ট অতিথি ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন তিনি।
শপথের পর নিজের সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট করে দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, কলম্বিয়ার জনগণকে দৃঢ় বার্তা দিতে চাই। শৃঙ্খলা, কর্তৃত্ব ও স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সময় এসেছে।
জুনের নির্বাচনে বামপন্থী প্রার্থী ইভান সেপেদাকে হারিয়ে বিজয় নিশ্চিত করেন দে লা এসপ্রিয়েলা। সেপেদা ছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ঘনিষ্ঠ এবং পেত্রোর রাজনৈতিক দল থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে দে লা এসপ্রিয়েলা নিজেকে ‘দ্য টাইগার’ নামে পরিচয় দেন। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে থাকার সময় তিনি বলেছিলেন, আমি কলম্বিয়ার সব মানুষের প্রেসিডেন্ট হব, যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যারা অন্য প্রার্থীকে বেছে নিয়েছেন, সবাইকেই। একই সময়ে তিনি ১৯৯১ সালের সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের কথাও জানান এবং সংবিধান সুরক্ষায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
দে লা এসপ্রিয়েলার নির্বাচনী বিজয়কে লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থী রাজনীতির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পেরু, আর্জেন্টিনা, চিলি, ইকুয়েডর, বলিভিয়া ও পানামায় দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং অপরাধ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। এরই মধ্যে কঠোর দমনমূলক নীতির প্রতিশ্রুতি দেওয়া কট্টর ডানপন্থী প্রার্থীরা, যারা একসময় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে ছিলেন, বিভিন্ন দেশে বাড়তি জনসমর্থন পেতে শুরু করেছেন।