স্থানীয় হাসপাতাল ও মর্গের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও হাইকমিশনের সহযোগিতায় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে মালদ্বীপ থেকে দেশে ফিরছেন ৪৫ বছর বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশি মো. শেখ ফরিদের মরদেহ।
প্রয়াত এ প্রবাসীর দেশের বাড়ি ফেনী জেলা, সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামে। তার পিতার নাম নসা মিয়া।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন।
হাইকমিশন জানায়, শেখ ফরিদের মরদেহ গত ৭ দিন ধরে স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রক্ষিত ছিল। মালদ্বীপের আইন অনুযায়ী কোনো বৈধ প্রবাসী কর্মকালীন অবস্থায় মারা গেলে বা অসুস্থ অথবা আহত হলে যথাযথ ইনস্যুরেন্সের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কর্তৃক চিকিৎসা খরচসহ প্রয়োজনে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশি শেখ ফরিদ মৃত্যুকালীন সময় বৈধভাবে মালদ্বীপে অবস্থান করছিলেন না। যার কারণে তার মরদেহ দেশে পাঠাতে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
হাইকমিশন আরও জানায়, মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের এবং মরহুমের পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে, আজ হাইকমিশনের সহযোগিতায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রয়াত শেখ ফরিদের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে। এসময় বাংলাদেশ সরকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিতকল্পে সবসময় বদ্ধপরিকর বলেও যোগ করেন হাইকমিশন।
মরহুমের নিকট আত্মীয় বিএনপি মালদ্বীপ শাখার সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বলেন, দুই বছর আগে নতুন করে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে শেখ ফরিদ মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছন। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (৩০, জুলাই) বিকেলে স্ট্রোকজনিত কারণে হঠাৎ করে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত স্থানীয় ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রয়াত শেখ ফরিদ প্রথম দিকে মালদ্বীপের বিভিন্ন কোম্পানিতে বৈধভাবে কর্মরত থাকলেও অপরিশোধিত ভিসা ফি'র কারণে শেষ দিকে এসে অবৈধভাবে কর্মরত ছিলেন। এজন্য তার বৈধ কোনো ডকুমেন্টস না থাকায় আমরা প্রবাসীরাসহ মালদ্বীপস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় আজ শেখ ফরিদের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে।এজন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তাদের ধন্যবাদও জানান তিনি।
প্রয়াত শেখ ফরিদকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় মালদ্বীপের বিমানবন্দরে জড়ো হন স্বজন, সহকর্মী ও স্বজনতুল্য প্রবাসীদের পাশাপাশি মরহুমের নিজ জেলার বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এসময় বিমানবন্দরে এক শোকের আবহ সৃষ্টি হয়।
বিনা খরচে প্রবাসী শেখ ফরিদের মরদেহ দেশে পাঠাতে বাংলাদেশ সরকার ও হাইকমিশনের এমন ধারাবাহিক প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয় এবং সংশ্লিষ্ট সবাই প্রশংসার দাবিদার বলে মনে করেন বসবাসরত বাংলাদেশিরা।
উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মালদ্বীপে আট প্রবাসী বাংলাদেশির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।আত্মহত্যা, কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, স্ট্রোক ও হৃদরোগে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন।
শুক্রবার (৭, আগস্ট) রাত প্রায় ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রয়াত শেখ ফরিদের মরদেহ গ্রহন করেন, তার নিকট আত্মীয় শিপুল ও আজিজ।