
আহত এসআই মুর্শেদ আলম জকিগঞ্জ থানায় কর্মরত। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় একটি সশস্ত্র দল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানা-পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সতর্ক অবস্থান নেন।
পরে কালীগঞ্জ-কেরাইয়া সড়কে সন্দেহজনক একটি পিকআপের গতিরোধের চেষ্টা করেন জকিগঞ্জ থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মোমেন, এসআই মুর্শেদ আলমসহ পুলিশের সদস্যরা। পুলিশ থামার সংকেত দিলেও পিকআপটি দ্রুতগতিতে ঘটনাস্থল অতিক্রম করে চলে যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা গাড়িটির পিছু নেন।
একপর্যায়ে এসআই মুর্শেদ আলম চলন্ত পিকআপে ওঠার চেষ্টা করে গাড়িতে উঠতে সক্ষম হন। এ সময় পিকআপের ভেতরে থাকা দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তিনি চলন্ত পিকআপ থেকে সড়কে পড়ে যান।
পেছনে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কথা বলতে পারলেও তার মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ডাকাত দলের সদস্যদের আটকে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এসআই আব্দুল্লাহ আল মোমেনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালান। পরে মানিকপুর ইউনিয়নের দরগাহ বাহারপুর গ্রামের কামাল আহমদের ছেলে দিদার আহমদ এবং একই ইউনিয়নের ওয়াসার গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে মারুফ আহমদকে আটক করা হয়। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত পিকআপটিও জব্দ করা হয়।
তবে অভিযানের সময় ডাকাত দলের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। তাদের শনাক্ত ও আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে গত কয়েক দিনে জকিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের কয়েকটি ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পুলিশের অভিযানে দুইজন আটক ও পিকআপ জব্দের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।