
বঙ্গোপসাগরে আজ শনিবারের মধ্যেই একটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা মোটামুটি রয়েছে। ফলে সামনের কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে।
শনিবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর আরেকটি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় থাকলেও উত্তর বঙ্গোপসাগরে এর অবস্থা মাঝারি।
এই আবহাওয়ায় আজ রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
রোববার রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় এবং রাজশাহী বিভাগের কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
মঙ্গলবার রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিনও অস্থায়ী দমকা হাওয়ার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
বুধবার রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে সুনামগঞ্জের মহেশখোলায়। এ ছাড়া নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ১০৭, পটুয়াখালীতে ৯৪, বরগুনায় ৯১ এবং পাবনায় ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। উজানের মেঘালয় ও ত্রিপুরাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদনদীর পানি আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।
কেন্দ্রটির তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদনদীর পানি বাড়তে পারে। এর ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কয়েকটি এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে ওই জেলাগুলোর নদীসংলগ্ন নিচু অঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার অববাহিকায় আগামী এক দিনে নদীর পানি কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর পরবর্তী দুই দিন পানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। অন্যদিকে আত্রাই নদীর পানি আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে নওগাঁ ও নাটোর জেলার কয়েকটি পয়েন্টে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি সুরমা নদীর কানাইঘাট এবং কুশিয়ারা নদীর মারকুলি, অমলশীদ ও শেওলা পয়েন্টে পানির উচ্চতা সতর্কসীমার কাছাকাছি রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের আশঙ্কা, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
তিস্তা ও কুশিয়ারা নদীর দুটি পয়েন্টে বর্তমানে পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী এক থেকে তিন দিনের মধ্যে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলার নদীসংলগ্ন নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের পূর্বাভাস এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের ১২৭টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে দুটি স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গাইবান্ধার তারাপুর পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। অন্যদিকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গতকাল ৮৪টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে নদনদীর পানি বেড়েছে। বিপরীতে ৪১টি স্টেশনে পানি কমেছে এবং দুটি স্টেশনে পানির উচ্চতায় কোনো পরিবর্তন হয়নি।
গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদনদীর পানি আগামী পাঁচ দিন বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে এ সময়েও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদনদীতে আগামী তিন দিন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি জোয়ার হতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকায় পানি প্রবেশের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই অবস্থায় নদীতীরবর্তী এবং নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।