দুই সপ্তাহের তীব্র সংকটের পর মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। সবচেয়ে দ্রুত এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষার বদলে অনেক স্টেশনেই এখন ২০-২৫ মিনিটে গ্যাস নিয়ে বের হতে পারছেন চালকেরা। বেড়েছে গ্যাসের চাপ, কমেছে দীর্ঘ সারিও।
গতকাল শনিবার ঢাকার বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো যানবাহনের বাড়তি চাপ নেই। মগবাজারের অটোরিকশাচালক বাবুল জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাস নিতে তিন-চার ঘণ্টা লাইনে বসে থাকতে হতো। এতে দিনের আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। শনিবার মাত্র ২০ মিনিটেই গ্যাস নিতে পেরেছেন তিনি। আরেক চালক রুবেল বলেন, গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ নিয়মিত থাকলে তাদের আয়ও বাড়বে।
মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই সংকট তৈরি হয়েছিল। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে গেলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সিএনজি পরিবহনে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে তৈরি হয় দীর্ঘ সারি।
তবে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে এক্সিলারেটের টার্মিনাল দিয়ে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শুরুতে ১১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট সরবরাহ হলেও ধীরে ধীরে তা বেড়ে ৩০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। এর ফলে জাতীয় পর্যায়ে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ২১৫ কোটি ঘনফুট থেকে বেড়ে ২৪৫ কোটি ঘনফুট ছাড়িয়েছে। পুরো টার্মিনাল চালু হলে সরবরাহ আবার প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে।
তবে স্বস্তি এলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। এক্সিলারেটের টার্মিনালের একটি বয়লার এখনো ক্ষতিগ্রস্ত। সেটি চালু করতে বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আনা হয়েছে। কাজ শেষ করে ১০ আগস্টের আগে বয়লারটি চালু করা সম্ভব নাও হতে পারে। আবার সেটি পরীক্ষার সময় বর্তমানে চালু থাকা বয়লারও বন্ধ রাখতে হবে। ফলে অন্তত ১২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
গ্যাসের সরবরাহ বাড়ায় বিদ্যুৎ খাতেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কয়েক দিন আগে দিনে সর্বোচ্চ তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হলেও টানা বৃষ্টিতে চাহিদা কমায় শুক্রবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩২৫ মেগাওয়াট। তবে আবহাওয়া গরম হয়ে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে পরিস্থিতি আবার খারাপ হতে পারে।
জ্বালানি খাতের এই সাময়িক স্বস্তির মধ্যেও দীর্ঘমেয়াদি সংকটের ঝুঁকি রয়ে গেছে। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুটের বিপরীতে স্বাভাবিক সরবরাহ ২৭০ কোটি ঘনফুট। মোট সরবরাহের ৩৫-৪০ শতাংশ আসে এলএনজি থেকে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদনও কয়েক বছর ধরে কমছে। ফলে একটি এলএনজি টার্মিনালে সমস্যা হলেই জাতীয় পর্যায়ে সংকট তীব্র হয়ে উঠছে।